logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo মামলা প্রত্যাহারে ছাত্রশিবির হত্যার হুমকি দিচ্ছে বাদিদের!/ ইতোমধ্যেই ২টি মামলা প্রত্যাহার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের উপর ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র হামলা, হতাহত এবং ছাত্রলীগের এককর্মী খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য মামলার বাদি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ছাত্রলীগের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে শিবিরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়া হয় এবং তা না গ্রহণ করলে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। শিবিরের উপর্যুপুরি হুমকি এরই মধ্যে দু’টি মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে কর্মীদের। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে ছাত্রলীগ অভিযোগ করেছে।
এছাড়া ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কার্যক্রম না থাকায় তারা সংগঠিত হতেও পারছে না। এমতাবস’ায় মামলার বাদি ছাড়াও সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হলে হলে শিবিরের সশস্ত্র হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী শাহ্‌ মখদুম (এসএম) হলের ছাত্র ফারুক হোসেন খুন হয়। পরদিন হলের একটি ম্যানহোল থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শিবির চার ছাত্রলীগ কর্মীর হাত-পাঁয়ের রগ কেটে দেয়। শিবিরের হামলায় পুলিশসহ অর্ধশত ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। এসব ঘটনায় মতিহার থানায় একটি হত্যাসহ ১৪টি মামলা দায়ের হয়।
মামলাগুলোতে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমান, রাবি শিবির সভাপতি শামসুল আলম গোলাপসহ রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওই সময় থেকে শিবির নেতাকর্মীরা পলাতক আছে। কিন’ দীর্ঘ দিন পলাতক থাকা শিবির নেতাকর্মীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হওয়ার আশঙ্কা এবং রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম স’বির হওয়ায় তারা দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য বাদী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছেন।
এদিকে গত ৭ আগস্ট ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। মামলায় পুলিশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপুকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় কেন্দ্র থেকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স’গিত করা হয়।
অন্যদিকে সম্পাদক জেলে এবং সভাপতি আউয়াল কবির পলাতক থাকা অবস’ায় ১৫ আগস্ট ইফতারের টোকেন বিতরণকে কেন্দ্র করে এসএম হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা সংগঠনের এক কর্মী নাসিমকে দোতলা থেকে ফেলে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস’ায় আটদিন পর তার মৃত্যু হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পর দিন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিস্কার করে। ওই সময় থেকেই কার্যত স’বির হয়ে পড়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম।
এমতাবস’ায় সংগঠিত হতে শুরু করে শিবির। তারা ক্যাম্পাসের আশেপাশে সাংগাঠনিক কার্যক্রম শুরু করে। কিন’ মামলার কারণে চিহ্নিত শিবির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ভিড়তে পারেনি। ফলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে।
৮ ফেব্রুয়ারি ফারুক হোসেন খুনের মামলার বাদি ছাত্রলীগ নেতা মাজেদুল ইসলাম অপু জানান, ৭ আগস্ট এসএম হলের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় থাকাবস’ায় তাকে হত্যা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হয়। কয়েকজন কয়েদির মাধ্যমে তাকে বলা হয়, মামলা প্রত্যাহার করলে তার ‘লাইফ রিস্ক’ থাকবে না। জামায়াত-শিবির তার সকল প্রকার ‘সিকিউরিটি’ দেবে। তবে ছাত্রলীগ নেতা অপু তাদের ফিরিয়ে দেন। এই মামলায় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলওয়ার হোসেন সাঈদীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
অপু জানান, মামলা প্রত্যাহারে তাকে মানসিক চাপ ও নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন’ তিনি তাদের কথায় কান দেননি।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৮ অক্টোবর একটি মামলার বাদি ও ছাত্রলীগের কর্মী রাহিদুল ইসলাম খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক পদে চাকরির আবেদনপত্র জমা দিতে গেলে রাজশাহী কোর্ট এলাকায় দু’জন শিবির ক্যাডার তার মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য একটি কাগজে সই করার জন্য চাপ দেয়। তাকে বলা হয়, তোমার মামলায় জামায়াত নেতা আতাউর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমানকে জেল খাটতে হচ্ছে। মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলে তারা জামিনে মুক্তি পাবে। অন্যথায় তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে কৌশলে তিনি ওই স’ান ত্যাগ করেন। আগের দিন মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। রাহিদুল জানান, এ বিষয়ে তিনি মতিহার থানায় জিডি করেছেন।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আরো অভিযোগ করেন, ১৫ আগস্ট এসএম হলের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রুহুল আমিনকে জেলখানায় শিবির নেতাকর্মীরা তার দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি এসএম হলে শিবিরের হামলা-ভাংচুরের একটি মামলার বাদি। এই মামলা প্রত্যাহারে তাকে ১০ লাখ টাকা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দেয়া হচ্ছে বলে ছাত্রলীগের অভিযোগ।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এভাবে শিবিরের অব্যাহত হুমকি এবং নানা প্রলোভনে পড়ে এসএম হলের ছাত্রলীগ কর্মী ফেরদৌস হোসেন মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি বিনোদপুর এলাকায় ফিরোজ হোসেন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। তিনিও মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে ছাত্রলীগের দাবি।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালেও তাদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এছাড়া দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কর্যাক্রম না থাকায় ছাত্রলীগ স’বির হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিবির বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে সাহস পাচ্ছে। তারা যেকোন সময় ক্যাম্পাসকে অসি’তিশীল করে তুলতে পারে। মৌলবাদী শিবিরকে মোকাবেলা করতে তারা দ্রুত ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক কার্যক্রম চালু করার ব্যবস’া কারার আহ্বান জানান।
ছাত্রলীগ নেতা আউয়াল কবির জয়, মাজেদুল ইসলাম অপু, আবু হোসাইন বিপু, আহমদ, শরীফসহ একাধিক নেতাকর্মী জানান, শিবিরের অব্যাহত হুমকি-ধামকিতে কর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এজন্য তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি শিবিরকে মোকাবেলা করতে সংগঠিত হওয়ার কোন বিকল্প নেই উল্ল্লেখ করে তারা রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস’া নেয়ার আহ্বান জানান।
প্রক্টর অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া জানান, হুমকির বিষয়টি কেউ তাকে লিখিতভাবে জানায়নি। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস’া নেবে। সুএ:সোনালী সংবাদ

পাতাটি ৩০৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন