logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo মা দ্বিতীয় শ্রেণীতে ছেলে তৃতীয় শ্রেণীতে !
বাবার সংসারে অভাব আর দারিদ্র্য যাকে স্কুলের বারান্দায় পৌঁছায়নি। স্বামীর সংসারে এসে দুই সন্তানের জননী হলেও নতুন করে অক্ষর জ্ঞান নেয়ার জন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছেন মমতাজ বেগম। ৪০ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রমান করলেন, সব বয়সেই শিক্ষাগ্রহণ করা যায়। এমনই এক নজির স’াপন করেছেন বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়র্াডের কসবা গ্রামের শামসুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম।

মমতাজের বয়স এখন ৪০ এর কোটায়। তার বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন- পড়াশুনা করে। তারপরে আর পড়াশুনা করেনি। আর ছোট ছেলে সাগর আলী তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। আর মা মমতাজ দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়েন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে কসবা রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষায় সময় শেষ হওয়ার আগে সব ছাত্র-ছাত্রী খাতা জমা দিলেও মা আর ছেলে খাতা জমা দেয়নি। দু’জনে কথা বলছে আর লিখছে। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সাগর আলীর কাছে জানতে চাইলে সে বলে, আমার মায়ের খুর ইচ্ছা, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন- পড়াশুনা করে পার্শ্ববর্তী এক ট্রেলার্সের কাজ করবে। লেখাপড়া না জানার কারণে কোন কিছু পড়তে কিংবা মাপ বলতে পারেন না।

তাই আমার মা আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছেন। আর মমতাজ বেগমকে জিঞ্জাসা করলে তিনি বলেন, বাবার সংসারে অভাব অনটনের মধ্যে ৩ বোন পঞ্চম শ্রেণী পযন- পড়াশুনা করেছে। আর আমরা ২ বোনের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। আর সম্ভব না হওয়ার কারণে আমরা স্বামীর সংসারে এসে প্রতিনিয়ত বকাবকি খেতে হয়।

আর আমার পড়াশুনা না হওয়ার কারণন আমার বড় ছেলে বাবুল হোসেন বাবুর পড়াশুনা হয়নি। কাজেই নিজে নিজে ভেবে চিনে- ঠিক করেছি, বেশি পড়াশুনা করতে না পারলেও পঞ্চম শ্রেণী পর্যন- পড়াশুনা করবো। যাতে আমার ছোট ছেলে সাগরকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে পারি। আমার বড় ছেলের মত না হয়।

আবার আমি বাড়ির পাশে একজনের কাছে দর্জির কাজ শিখছি। সেখানে কাপড় কাটার হিসাব নিকাশ বুঝতে পারিনা। যেখানে কাজ শিখি সেখানে সব সময় বোবার মত বসে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, বর্তমান যুগে পড়াশুনা না জানলে সব জাগায় ঠকতে হয়। আর যেন কেউ মুর্খ না বলতে পারে মূলত এই জন্যই আমি স্কুলে ভর্তি হই। তবে মমতাজ পড়াশুনায় কেমন, কি কারণে ভর্তি হয়েছেন এ ব্যাপারে স্কুলের সহকারি শিক্ষক ঈমান আলী বলেন, পড়াশুনায় ভাল। সংসারের সব কাজকর্ম সেরে স্কুলে একটু দেরিতে আসেন। আর যে সময় আসেন তার পরেও ভালই বলা চলে।

পাতাটি ৩৮৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন