logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীতে রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু এ মাসেই
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ মাসেই শুরু হচ্ছে রাজশাহীতে ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের (ভাড়াভিত্তিক বিদু্যুত্ কেন্দ্র) নির্মাণ কাজ। নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। মহানগরীর অদূরে কাটাখালীতে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের আগে নির্ধারিত স্থানেই এটি নির্মিত হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ২০১১ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। কাজের গতি স্বাভাবিক থাকলে ওই সময় থেকেই এখানে পুরোদমে বিদ্যুত্ উত্পাদন শুরু হবে। বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য ব্যবহার হবে ফার্নেস অয়েল। এ কেন্দ্রের জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজশাহী বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দেখে রাজশাহীর কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল প্লান্ট ও ৫০ মেগাওয়াটের পিকিং প্লান্ট স্থাপনের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হয়। ৫০ মেগাওয়াটের রেন্টাল প্লান্টটি থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা। আর বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পিকিং প্লান্টের ব্যবহার করার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। তবে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও প্রকল্পটি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ না পাওয়ায় স্থানীয় পিডিবি কর্মকর্তারা হতাশ হন। এদিকে আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী অঞ্চলে কোনো বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র না থাকায় বহু বছর ধরে এ অঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষকে বিদ্যুতের জন্য জাতীয় গ্রিড লাইনের ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে মহাজোট সরকার রাজশাহী অঞ্চলে একাধিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়। রাজশাহীতে একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য চলতি বছরের শুরুতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত দেশে নির্মাণাধীন আরও ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে রাজশাহী বিদ্যুত্ কেন্দ্রকে বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নর্দার্ন পাওয়ার, টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এর নির্মাণ ব্যয় বহন করা হবে।
রাজশাহী বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলায় দৈনিক প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোনো উত্পাদন কেন্দ্র না থাকায় বিদ্যুতের পুরোটায় আনতে হয় জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে। তবে জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ না পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোতে দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং করা হয়। আবার কৃষিকাজে সেচযন্ত্র চালাতে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত বিদ্যুতের। ফলে শহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রেখে সেচকাজে বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে হয়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শেষ পর্যন্ত রাজশাহীতে একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের দাবিটি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে রাজশাহীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছিল। কিন্তু রাজশাহীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই রাজশাহীবাসীর প্রাণের দাবি এবং এর গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। মেয়র লিটন বলেন, ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিড লাইনের ওপর চাপ অনেক কমবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

পাতাটি ২৫৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন