logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আমার বিচার কেউ করতে পারবে না : এরশাদ
সপ্তম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, আমার বিচার কেউ করতে পারবে না।

রোববার দুপুরে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকের পর রাতে রংপুর ফিরে শহরতলীর বাসভবন পল্লী নিবাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

এরশাদ বলেন, "যারা আমার বিচার চায় তাদের মস্তিস্ক বিকৃত হয়েছে। তারা হাইকোর্টের রায় পড়ে নাই।

"রায়ে আমার ক্ষমতায় থাকাকালের সব ভালো কাজের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বাকি কর্মকাণ্ড মার্জনা করে দেওয়া হয়েছে। তাই আমার বিচার কেউ করতে পারবে না।"

তিনি আরো বলেন, "যারা ভাবছে এরশাদের ফাঁসি হবে তাদের মনোবাসনা কোনো দিনই পূরণ হবে না।"

হাইকোর্ট গত ২৬ অগাস্ট সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে। সেইসঙ্গে এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনকে সংবিধান পরিপন্থী ও অবৈধ ঘোষণা করে আদালত।

সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

ওই রায়ের পর রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এরশাদ।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, "স্যার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। মহাজোটকে শক্তিশালীর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জেনেছি।"

এরশাদ ঢাকা থেকে রাত পৌনে ১০টায় রংপুরের বাসভবনে পৌঁছলে জাতীয় পার্টির কয়েকশ' নেতা-কর্মী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় এরশাদের ভাতিজা সাংসদ আসিফ শাহরিয়ার, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও রংপুর পৌর মেয়র আব্দুর রউফ মানিকসহ জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন ।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ জানান, রোববার দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একান্ত বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

কী কী কথা হয়েছে� জানতে চাইলে প্রথমে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে তিনি জানান, বৈঠকে সপ্তম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়সহ অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী-ই ব্রিফ করতে পারেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকবেন কি না� জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আমি তো মনে করছি, মহাজোট আরো শক্তিশালী হবে।"

সপ্তম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরো বলেন, "রায়ে বলা হয়েছে সংসদে আইন করে বিচার করতে হবে। তাই বলে সংসদ তো আর পেছনের কথা বলে আইন করতে পারবে না।

"বরং আগামী দিনে যাতে আর সামরিক শাসন জারি করে কেউ ক্ষমতায় আসতে না পারে সে জন্য সংসদে আইন করা যেতে পারে।"

এরশাদ বলেন, "যারা আমার বিচার করার কথা বলছে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু আমার নয় বছরের শাসনামলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা দেশের মানুষ আজীবন মনে রাখবে। কোনো মায়া কান্না করে লাভ হবে না।"

তিনি বলেন, "আমি ১৯৮৬ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলাম। এর আগে চার বছর দেশে সামরিক শাসন ছিলো।"

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাত্তার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছিলেন দাবি করে এরশাদ বলেন, "সে সময় অন্য কেউ সেনাপ্রধান থাকলে তাকেও ক্ষমতা গ্রহণ করতে হতো।

"আর আমি ৮৬ সালের ১০ নভেম্বর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এখন থেকে প্রতি বছর জাতীয় পার্টি ১০ নভেম্বর গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করবে।"

"১৯৮৪ সালে আমি দেশে সাধারণ নির্বাচন দিয়েছিলাম তখন আমার দল জাতীয় পার্টির সৃষ্টি হয়নি", বলেন তিনি।

পাতাটি ২৯২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন