logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ভয়াল ২১ আগস্ট আজ
আজ বিভিষীকাময় ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আর আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী। নারকীয় সে হামলায় মুহূর্তেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকা পরিণত হয় মৃত্যপুরীতে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারকীয় সেই গ্রেনেড হামলার ৬ষ্ঠ বার্ষকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি পালনে রাজধানীসহ দেশ জুড়ে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১১ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের মাধ্যমে শুরু হবে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা। বিকাল ৩টায় গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। একই সময় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ।

এরপর গ্রেনেড হামলার সময় বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন ও শহীদদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। একই সময়ে দেশে জুড়ে দলীয় কার্যালয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। নিরবতা পালন শেষে যুবলীগের উদ্যোগে ২১ আগস্টের ঘটনার ধারণ করা ছবি প্রদর্শন করা হবে।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। একই সময় দেশের সকল জেলা, উপজেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এছাড়া আগামীকাল রবিবার বিকাল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশের প্রধান অতিথি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ামাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলি বর্ষণ শুরু হয়। সমাবেশস্থলের দক্ষিণ দিক থেকে মঞ্চ লক্ষ্য করে ছোড়া গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তির গুরুতর ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মতিঝিল থানায় ২টি মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয়। ওই অভিযোগপত্রে নিষিদ্ধঘোষিত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

তবে ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। ২১ আগস্ট মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে এ পর্যন্ত ৫ দফা সময় চেয়েছেন। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরও ৪ মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৩ অক্টোবর নতুন সময় নির্ধারণ করে।

পাতাটি ২৯৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন