logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo গোলামী চুক্তি বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ চুক্তিকে গোলামীর চুক্তি আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে এই আ'লীগ ভারতের সাথে ১২৫ বছরের গোলামী চুক্তি করেছিল। এবার আবার ক্ষমতায় এসে ঋণ নেয়ার নামে আবারো গোলামীর চুক্তি করেছে। অবিলম্বে এই গোলামী চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি সরকার এই চুক্তি বাতিল না করে তাহলে আমাদের টাকা দিয়ে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে দেয়া হবে না। এই চুক্তি জনগণ মানে না। তিনি বলেন, আ'লীগ সরকার বুঝতে পেরেছে, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। তাই তারা জুলুম, নির্যাতন, মামলা, হামলার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের এখন বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হলো রিমান্ড আর মামলা। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। জনগণই ঠিক করবে কারা তাদের জন্য কাজ করবে।
তিনি বলেন, আ'লীগ শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করছে। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সমস্যার সমাধান, আইন-শৃক্মখলার চরম অবনতি, বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি, গুপ্তহত্যা, নারী নির্যাতন, সরকারি দলের ক্যাডারদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলসহ ১৩ দফা দাবিতে বিএনপির পূর্বঘোষিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ৩০ মিনিটের এ বক্তব্যে বেগম জিয়া সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে রমযানের পরে রাজপথে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে।
গত ২৭ জুলাই সরকার বিরোধী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। গণমিছিল সফল করতে গত কয়েকদিন বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনসমূহ রাজধানীতে ব্যাপক জনসংযোগ ও ১৩ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করে। মাঠ ব্যবহারের জন্য আবেদন করার পর মাত্র ১ দিন আগে পল্টন মাঠ থেকে গণমিছিল শুরু করার অনুমতি পায় বিএনপি। গণমিছিলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিবেন তাই আগে থেকেই নেতা-কর্মীদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। এছাড়া সরকারের ব্যর্থতার কারণে সাধারণ জনগণও ছিল গণমিছিলের পক্ষে। তারই প্রমাণ মিলেছে গতকাল বিকেল ৩টায় পল্টনে সমাগম শুরু হবার কথা থাকলেও দুপুরে পর থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ পল্টন মাঠে লোক সমাগম ঘটতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৩টায় পল্টন মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে ছেঁয়ে যায় পুরো এলাকা। মিছিল আর শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে পল্টন এলাকা। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে যখন বেগম খালেদা জিয়া পল্টন মাঠে প্রবেশ করেন তখন পুরো এলাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। বেগম জিয়া তার গাড়িতে দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখেন। ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা সংক্ষিপ্ত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেকের কুরআন তিলাওয়াতের পরপরই বেগম জিয়া তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের পরই গণমিছিলটি দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, কাকরাইল, মৌচাক হয়ে মগবাজার মোড়ে এসে শেষ হয়। পুরো পথেই গণমিছিলের নেতৃত্বে থাকেন সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী খ্যাত বেগম খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশ আজ মহা সংকটে। মানুষ আর আ'লীগ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। মানুষ আশা করেছিল তারা নির্বাচনের আগে যেসব ওয়াদা করেছিল সেগুলোর বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু গত দেড় বছরে তারা একটি ওয়াদারও বাস্তবায়ন করেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখল, গুপ্তহত্যা, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ক্যাডারদের অত্যাচারের কারণে মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা বলেছিল ১০ টাকার চাল খাওয়াবে। কিন্তু এখন মোটা চালের মূল্য ৩৬ টাকা, অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রীর দাম ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে। তিনি বলেন, এখন দেশে বিদ্যুৎ নেই। পানি ও গ্যাসের অভাবে স্বাভাবিক কাজও করা যাচ্ছে না। এ সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তারা প্রশাসনের সর্বত্র দলীয়করণ করে চলেছে। ভালো অফিসারদের চাকরিচ্যুতি ও ওএসডি করছে। অথচ যারা আ'লীগ করে তাদের উচ্চ পর্যায়ে বসানো হচ্ছে। অদক্ষ লোকদের কারণে প্রশাসনের সর্বত্র স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এখন যাদের বিএনপি বা অন্যদলের সমর্থক বলে ওএসডি বা চাকরিচ্যুত করছে তাদের পুনরায় পুনর্বহাল করা হবে এবং তাদের সমস্ত পাওনা টাকা পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, এজন্য এসব কর্মকর্তাদের দেশ বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে।
আ'লীগ সরকার দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, তারা ভারতের সাথে একের পর এক দেশবিরোধী চুক্তি করছে। অথচ আমাদের সীমান্তে প্রতিনিয়ত হত্যা চলছে। আমরা ন্যায্য পানি পাচ্ছি না, আমাদের জমি দখল হচ্ছে। ভারতে আমাদের কোন পণ্য রফতানি হয় না। এই সরকার এই সব বিষয়ে তাদের সাথে কোন আলোচনা করে না। পানির অভাবে নদী শুকিয়ে গেলেও আ'লীগ প্রতিবাদ করছে না। ভারতীয় জিনিসে আমাদের বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। অবস্থা এমন যে, কিছুদিন পরে আমাদের পুরো বাজার ভারত দখল করে নেবে। আমাদের সমুদ্র সীমা নিয়ে সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যা থাকলেও আ'লীগ সেগুলোর সমাধান না করে ভারতের স্বার্থেই দেশ বিরোধী চুক্তি করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ ভারতের সাথে ৭ হাজার কোটি টাকার যে ঋণ চুক্তি হয়েছে তার জন্য বাংলাদেশকে অনেক খেসারত দিতে হবে। অর্থনীতিবিদরাও বলেছেন, এর পরিণতি হবে খুবই খারাপ। এটা দিয়ে বাংলাদেশের কোন উপকার হবে না। সব কিছু ভারতের কল্যাণেই করা হয়েছে। তিনি বলেন, চড়া সুদের এই ঋণের বোঝা গরীব জনগণকেই বইতে হবে। সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করুন। এটা গোলামীর চুক্তি। বাতিল না করলে দেশের স্বার্থ বিরোধী এই চুক্তির বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। জনগণকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শৃক্মখল মুক্ত দেশ চাইলে এসব চুক্তি রুখে দিতে হবে।
বিএনপির আমলে দেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যত উন্নয়ন হয়েছে তার সবই বিএনপির সময়ে হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, রফতানি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব দূরীকরণ, জনশক্তি রফতানি সবই বিএনপির আমলে হয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আপনাদের বেতন বাড়িয়েছেন কিন্তু গরীব মানুষের আয় বাড়েনি। তারা কিভাবে বেঁচে থাকবে। তিনি বলেন, এ সরকার গরীবদের জন্য কিছুই করবে না, কারণ তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। আ'লীগ যেভাবে ভারত তোষণ করে চলেছে তাতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অনেক কারখানা, গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। আ'লীগ ক্ষমতার জন্য স্বাধীনতার পরে সবকিছু বিদেশীদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু তারা তাদের ক্ষমতায় আনতে পারেনি। জনগণ ঘুরে দাঁড়ালে এই সরকার পালাবার পথ পাবে না।
বর্তমান সরকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ক্যাডাররা নিজেরাই প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মারামারি করছে। আর এতে সহায়তা করে পুলিশ। আইন-শৃক্মখলা
রক্ষাকারীরা এসব সন্ত্রাসীদের দেখে না। অথচ তারা সম্পূর্ণ বিনা কারণে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে। রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করছে। তিনি বলেন, সরকার নিজেদের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলে দাবি করে অথচ আমাদের মানববন্ধন করার অনুমতি দেয় না। গণমিছিলের অনুমতি দেয়া হয় না। সংসদে কথা বলতে চাইলে মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের কোন নোটিশ পড়া হয় না। আমরা সংসদে কথা বলতে না পেরে বাধ্য হয়েই রাজপথে নেমেছি। তিনি বলেন, গত ২৭ জুনের সফল হরতালের পর সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা এখন মরিয়া হয়ে বিরোধী দলের প্রতিটা কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে অনেক কথা বলেছেন, অনেক বেআইনি কাজ করেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা ছাড় দিয়েছি। কোন মামলা দেয়নি। কিন্তু আপনারা এখন যেভাবে কথা বললেই মামলা ও রিমান্ডে নিচ্ছেন ভবিষ্যতে তার পরিণতি ভালো হবে না।
গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, নজরুল ইসলাম খান, সরোয়ারি রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ, সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মীর নাসির উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সালাউদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ফারুক, সহপ্রচার সম্পাদক সফি বিক্রমপুরী, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

পাতাটি ২৯৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন