logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী চিনিকলে আখ মাড়াই শুরম্ন

রাজশাহী চিনিকলে প্রয়োজনীয় আখ পাওয়ার জন্য প্রতিবছর কৃষকদের ঋণ দেয়া হয়। তাদের ঋণের টাকায় আখ চাষ করে কৃষকরা তা মিলে বিক্রি করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করে কর্তৃপড়্গ। কিন্তু কৃষকরা চিনিকলের ঋণের টাকায় আখ চাষ করে তা মিলে না দিয়ে এখন গুড় তৈরীতে ব্যসত্ম হয়ে পড়েছে। আর এই কারণে চলতি মৌসুমে রাজশাহী চিনিকলে প্রয়োজনীয় আখের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হবার আশংকা করছেন সংশিস্নষ্টরা। তবে আখ চাষিরা জানান, মিলগেটে আখ দিয়ে যেই দাম পাওয়া যাবে সেই তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় এখানকার কৃষকরা এখন ব্যসত্ম হয়ে পড়েছে গুড় তৈরীতে। জেলার চারঘাট ও বাঘায় এখন গ্রামে গ্রামে গুড় তৈরীর হিড়িক পড়ে গেছে। এই প্রড়্গাপটে গত শনিবার চিনিকলে আখ মাড়াই শুরম্ন হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে আখ চাষ কমছে। আর চিনিকলগুলোতে আখের অভাব হচ্ছে প্রায় প্রতি বছরই। রাজশাহী চিনিকল সূত্র জানা যায়, গত বছর রাজশাহী চিনিকলে প্রয়োজনীয় আখের অভাবে চিনি উৎপাদনের লড়্গ্যমাত্রার অর্ধেকও অর্জিত হয়নি। ঐ মৌসুমে মিলে মোট ১শ’ দিন উৎপাদন হবার কথা ছিলো। কিন্তু আখ না পাওয়ায় ৫৮ দিন মিল চলার পরই বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। আর এই ৫৮ দিনে মোট ৮৫ হাজার ১৫৫ টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ৬৭১ টন চিনি উৎপাদন করা হয়। ঐ বছর ১১ হাজার ৯৬৪ টন লড়্গ্যমাত্রা ছিলো। গত বছরও মিল এলাকার আশপাশের উপজেলাতে ব্যাপকহারে গুড় তৈরী হয়েছে অথচ আখের অভাবে অসময়ে বন্ধ করতে হয় মিল।

এদিকে সংকট এবার আরো জটিল হবে বলেই আশংকা করছেন সংশিস্নষ্টরা। কারণ গত বছর রাজশাহী মিলজোন এলাকায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও এবার চাষ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে। চিনিকল সূত্র জানায়, গত বছর নভেম্বরের শুরম্নতে মাড়াই শুরম্ন হয়ে ৫৮ দিন চিনিকল চালু ছিল। এবার মাত্র ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এখান থেকে ৬০ হাজার টন আখ ক্রয়ের বাজেট রয়েছে। তবে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টনের বেশি আখ পাওয়া যাবে কিনা এনিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। আর তায় যদি হয় তবে এই মৌসুমে রাজশাহী চিনিকলে ২০ থেকে ২৫ দিন মাড়াই চলবে কি না তানিয়ে সংশয় রয়েছে। এবছর চিনিকলে আখের দাম সরকারিভাবে বাড়ানো হলেও আখ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছেন না সংশিস্নষ্টরা। রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, গত বছর মিল গেটে আখের দাম ছিলো ৬৩ টাকা মন। এই বছর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৭ টাকা। তিনি বলেন, আখ চাষের জন্য এই বছর রাজশাহী চিনিকল এলাকার কৃষকদেও ছয় কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। তারপরও এসব ঋণ নেয়া কৃষকরাও গুড় তৈরী করছে। যে কারণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন কৃষকের বিরম্নদ্ধে মামলা করেছে চিনিকল কর্তৃপড়্গ। এছাড়া তিনি দাবি করেন, চিনিকলে এখন আগের থেকে অনেক বেশি দাম পাওয়া যায়।

পাতাটি ৩৫২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন