logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ইসলামী শক্তিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে সরকার : জামায়াত
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা জঙ্গিদের শাস্তি দিল আজ তাদেরই ধরে জঙ্গি বলা হচ্ছে। ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ’৭২-এর পর ইতিহাস অনেক গড়িয়েছে। সেখানে আর ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। অগণতান্ত্রিক আচরণের পরিণতির ব্যাপারে তিনি সরকারকে বলেন, নানা ধরনের অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ায় যারা, প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া দেয় যারা, তাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয় না। অথচ ৪০ বছরের আগের ঘটনায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হলো। এর পরিণতি শুভ হবে না। অন্যায়কারীর হাত লম্বা হতে দিয়ে তার পরিণতি ভালো হয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল বিকালে মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ফ্যাসিস্ট ও ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে চিকিত্সকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। দলের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. একেএম অলিউল্লাহ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন ও ডা. আবদুস সালাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি তাসনীম আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম।
মকবুল আহমদ বলেন, প্রতিবেশী দেশ ইসলামকে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে। তারা ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমি করেছে। এখন টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বাকি অংশকে মরুভূমি করতে চায়। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। নেপালকে তাদের দেশের ওপর দিয়ে মাত্র ৭-৮ কিলোমিটার সড়কের করিডোর দিয়েও ৬ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে দেয়। অথচ তারাই আমাদের দেশের ওপর দিয়ে ৩০০-৪০০ কিলোমিটার যাওয়ার ট্রানজিট চাচ্ছে। এ সুযোগ দেয়া হলে এদেশ হবে বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধক্ষেত্র। এটা কখনই এ দেশের জন্য শুভ হতে পারে না।
তিনি বলেন, জিনিসপত্র মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। মানুষ গ্যাস, বিদ্যুত্ পাচ্ছে না। শিল্পকলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার বিদেশ থেকে বিদ্যুত্ আমদানির নামে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এ ধরনের চক্রান্ত দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
গুপ্তহত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মকবুল আহমদ বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষকে একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, চৌধুরী আলম ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কমিশনার। তার কোনো হদিস নেই। এসবের পরিণতি শুভ হবে না। তিনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পন্থায় আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সে ধরনের কর্মসূচিও আমাদের পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। মানববন্ধন হচ্ছে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। অথচ সেটা পালনেও বাধা দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের বিবেকহীন কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার না করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে কোনো নির্বাচিত সরকার কতটা অগণতান্ত্রিক হতে পারে, জনতা তা হারে হারে টের পাচ্ছে। বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের শুধু হয়রানিই নয়, গ্রামেগঞ্জে পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের কথা আওয়ামী লীগ খুব বেশি বলে। ইতিহাস বলে, অগণতান্ত্রিক শাসন আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি করেছে। তিনি বলেন, ’৭২ থেকে ’৭৫ এবং ’৯৬ থেকে ২০০০ সালে গুপ্তহত্যা হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের দেড় বছরের শাসনামলে ৬ মাসে ৮০ জনকে গুপ্তহত্যা করা হয়েছে।

পাতাটি ২৯৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন