logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পৃথক মামলায় মুজাহিদ ও সাঈদী ৩ দিনের রিমান্ডে
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পৃথক মামলায় আরো ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ সময় তাদের রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে আদালত। ইতোমধ্যে দুই নেতারই টানা ১৬ দিন করে রিমান্ড শেষ হয়েছে। এছাড়া গত ১৫ জুলাই আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে পল্লবী থানার একটি মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মনজিল মোরশেদ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক কামরুন নাহার রুনি এ আদেশ দেন। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. হুমায়ুন আজাদকে হত্যা চেষ্টা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ৫টি পৃথক মামলায় ১৬ দিন রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়।
মাওলানা সাঈদী ৩ দিনের রিমান্ডে
গত ১১ জুলাই ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক এসকে তোফায়েল হাসান ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা ও অসুস্থ হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার আদেশ দেয় আদালত। এ সময় মাওলানা সাঈদীর পক্ষে হেফাজত বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করে দেন।
২০০৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ড. হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করে।
মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, এডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান, এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক এবং এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন।
এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও এডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান শুনানীতে অংশ নিয়ে বলেন, এটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। মাওলানা সাঈদী বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে মানুষকে নামাজ পড়তে বলেন। তাই বলেতো তার ওয়াজ শুনে সবাই নামাজী হয়ে যায় না। ওয়াজ শুনে কেউ কিছু করে থাকলে তার দায় উনার উপরে আসবে কেন?
আদালতে শুনানী শেষে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ১৬ দিনের রিমান্ড শেষে ১৯ দিন পর আদালতে আনা হয়েছে। ২০০৪ সালের একটি মামলায় তাকে পুনরায় ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। তিনি বলেন, এ মামলাটি চার্জশিট দেয়ার পর ইতোমধ্যে বিচারিক আদালতে সাক্ষী নেয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। সেই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। তিনি বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি মাওলানা সাঈদী ইতোমধ্যে টানা ১৬ দিনের রিমান্ডে ১৯ দিন থাকার পর আদালতে আনা হয়েছে। আমরা তার রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছিলাম। তিনি অসুস্থ, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই পুনরায় রিমান্ডে নেয়া যেতে পারে।
এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করার জন্যই মাওলানা সাঈদীকে এ মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এফআইআর বা চার্জশীটে তার নাম ছিল না। এমনকি ১৬৪ ধারায় দেয়া আসামীদের জবানবন্দীতেও তার নাম আসেনি। তাকে হয়রানি করার জন্যই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রিমান্ডে নেয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও এ ক্ষেত্রে লংঘন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আলম তালুকদার জানান, সাঈদীকে উত্তরা থানার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি বলেন, জেএমবি নেতার ভাগ্নে শহীদের জবানবন্দীতে ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যার সাথে সাঈদী জড়িত বলে জানিয়েছে। আসল ঘটনা উৎঘাটনের জন্যই ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিশ্চিত থাকতে পারেন, এ ঘটনার সাথে জামায়াত ও জেএমবি পুরোপুরি ভাবে জড়িত।
মুজাহিদ আরো ৩ দিনের রিমান্ডে
বিমানবন্দর থানায় উত্তরা ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সাজানো মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুর মোর্শেদ এ মামলায় মুজাহিদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। মুজাহিদের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
মহানগর হাকিম কামরুন্নাহার রুমী শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকার সময় উচ আদালতের নির্দেশনা পালন করার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মুজাহিদকে শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহের আবেদন করা হলে আদালত নজীরবিহীনভাবে এ আদেশ না মঞ্জুর করে। এ সময় মামলার কাগজপত্র পাওয়ার জন্য রিমান্ডের শুনানী পিছিয়ে দেয়ার আবেদন করলে আদালত তাও নাকচ করে দেয়।
বিমানবন্দর থানার ওসি আবু সালেহ মো. শামসুদ্দিন উত্তরা ষড়যন্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন।
শুনানীতে অংশ নিয়ে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক আদালতে বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করার জন্য এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে টানা ১৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ১৯ দিন রেখে তাকে আদালতে আনা হয়েছে। তিনি তার জামিন আবেদন করে বলেন, এ মামলায় ৩১ জন আসামীর মধ্যে সবাই জামিনে আছে। তাকে এ মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডে নেয়া অযৌক্তিক।
এ পর্যায়ে শুনানীতে অংশ নিয়ে এডভোকেট এসএম কামালউদ্দিন বলেন, বাদী এফআইআরএ ৩১ জনের নামই উল্লেখ করেছেন। এর সাথে আর কেউ থাকতে পারে বাদী এমন কোন সন্দেহ করেনি। তাকে প্রতিহিংসামূলকভাবে হয়রানি করার জন্যই এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাদেরকে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে রিমান্ডে নেয়ার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।
এসময় শুনানীতে অংশ নিয়ে এডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বয়োবৃদ্ধ, তিনি মন্ত্রী ছিলেন। তাই ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা যেতে পারে। এছাড়া এ মামলার ৩১জন আসামীই জামিনে রয়েছে।
আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। পরে এ মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়ার আবেদন করা হয়। এসময় এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক শুনানীতে অংশ নিয়ে বলেন, আমরা মামলার কাগজপত্র পাইনি। তিনি এ জন্য রিমান্ড শুনানির জন্য সময় দেয়ার আবেদন করে বলেন, সবারই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। আত্মপক্ষ সমর্থন করার সাংবিধানিক অধিকার আছে। তাই কাগজপত্র পাওয়ার পর শুনানী করার জন্য তিনি আবেদন জানান। আদালত তা না মঞ্জুর করেন।
এ সময় এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে বলেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য মামলায় জড়ানো হয়েছে। উচ্চ আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী একই ব্যক্তিকে টানা ১৫ দিনের বেশী রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই। এসময় শুনানীতে অংশ নিয়ে এডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে টানা তাকে ১৬ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৯ দিন পর আনা হয়েছে। এখন আবার রিমান্ডে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার কথা তুলে ধরে বলেন, এক ব্যক্তিকে ১৫ দিনের বেশী রিমান্ডে নেয়া যায় না। এসময় তিনি ৫৫ ডিএলআর এর ৩৬৭ পৃষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রিমান্ডে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা নিম্ন আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। এটা মানা না হলে সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশনা লংঘন করা হবে।
এ সময় শুনানীতে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি শাহ আলম তালুকদার বলেন, মাহমুদুর রহমান ২০০৬ সালের ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল চারদলীয় জোটের পক্ষে নেওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে আসামির বিমানবন্দর থানার আর্টিজান সিরামিকস অফিসে গোপন ষড়যন্ত্রে মিলিত হন। সাংবাদিকরা খবর পেয়ে সেখানে গেলে তারা মুখ ঢেকে পালিয়ে যান। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ১৫ দিনের বেশী রিমান্ডে নেয়া যাবে না এ ধরনের কোন নির্দেশনা নেই। এমন কথা কোথাও বলা নেই।
আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে সতর্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়।
এ সময় জামায়াত নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এসএম সোহরাব আলী, এডভোকেট আশরাফুজ্জামান, এডভোকেট মো.ইউসুফ আলী, এডভোকেট মো.আবদুর রশিদ, এডভোকেট লুৎফর রহমান আজাদ, এডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, এডভোকেট শামসুল ইসলাম আকন্দ, এডভোকেট আকতারুজ্জামান সোহেল, এডভোকেট ফিরোজ আলম, এডভোকেট আবদুল মান্নান, এডভোকেট রেজাউল করিম, এডভোকেট মাহবুবুর রহমান, এডভোকেট সাজ্জাদ সরওয়ারসহ শতাধিক আইনজীবী।

পাতাটি ৩০৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন