logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে মাওলানা নিজামীকে আরো পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ
উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আদালত রিমান্ড বাতিলের আবেদন না মঞ্জুর করে। এ নিয়ে মাওলানা নিজামীর ২১ দিন রিমান্ড হলো। ইতোমধ্যে তাকে ১৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মাওলানা নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে। উত্তরা থানায় দায়েরকৃত মামলায় পূর্বে মঞ্জুরকৃত রিমান্ড না নিয়ে মাওলানা নিজামীকে জেল হাজতে প্রেরণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার আবেদন করে তার আইনজীবীরা। আদালত এ আবেদন না মঞ্জুর করে উত্তরা থানায় দায়ের করা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেয়।
পল্লবী থানার একটি সাজানো হত্যা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেন।
গত ১৪ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। মাওলানা নিজামী রমনা থানার মামলায় চারদিনের রিমান্ডে থাকায় তখন তার শুনানি হয়নি। একই মামলায় ইতোপূর্বে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ৩ দিন এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লাকে ৫ দিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
মামলার শুনানিতে মহানগর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন আদালতকে জানান, নিজামী তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের ইসলামী ছাত্র সংঘের সংগঠক ও আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে অন্য আসামীরা আলোকদী গ্রামের ৩৪৪ জনকে হত্যা করে। তাদের সঙ্গে কারা এ হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা জানার জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
শুনানিতে মাওলানা নিজামীর পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ঘটনার ৩৮ বছর পর এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এর আগেও দু'বার ক্ষমতায় ছিল। তখন তারা যুদ্ধাপরাধী কিংবা গণহত্যা ইস্যুতে কোনো মামলা দায়ের করেনি। সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
শুনানি শেষে মাওলানা নিজামীর আইনজীবী এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, রমনা থানার মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড শেষে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে উত্তরা থানায় দায়েরকৃত মামলায় ইতোপূর্বে মঞ্জুরকৃত ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। আমরা এর বিরোধিতা করে মাওলানা নিজামীকে জেল হাজতে পাঠানো ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছিলাম। আমরা বলেছি, ইতোমধ্যে তাকে ১৩ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। একটানা রিমান্ডে থাকার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়। আদালত এ আবেদন না মঞ্জুর করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন মঞ্জুর করে।
এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক বলেন, পল্লবীতে দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আমরা ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ চ্যালেঞ্জ করেছি। ৩ দিনের বেশি রিমান্ডে নেয়া যাবে না বলে হাইকোর্টের নির্দেশের কথা আমরা আদালতকে জানিয়েছি। কিন্তু আদালত আমাদের আবেদন না মঞ্জুর করে। তিনি বলেন, পল্লবী থানায় দায়েরকৃত মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। ৩৮ বছরের আগের ঘটনায় মামলাটি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বহু বছর পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ দুইবার ক্ষমতায় এসেছিল, কিন্তু তখন কোন মামলা হয়নি। তিনি বলেন, উত্তরা থানায় দায়েরকৃত মামলাটিও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। এ মামলার ৩১ জন আসামীর সবাই জামিনে রয়েছে। এ মামলায় আরো কেউ আসামী থাকতে পারে এ ধরনের কোন আবেদন ইতোপূর্বে ছিল না।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন বলেন, মতিউর রহমান নিজামীর নিদের্শেই সে দিন হত্যাকান্ড চালানো হয়েছিল। আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তারা জামিন আবেদন করেছিল, আদালত তা না মঞ্জুর করে। পল্লবী থানার মামলাটি কারা তদন্ত করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সম্ভবত: সিআইডি। সময়ের স্বল্পতার কারণে বিস্তারিত দেখা হয়নি।’’
একটানা তিনদিনের বেশি রিমান্ডে না নেয়া ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন না করাসহ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণের জন্য গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেন। তিন মামলায় ইতোমধ্যে রিমান্ড শেষ হয়ে যাওয়ায় উত্তরা থানার মামলায় সরকারকে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়।
গতকাল মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মশিউল আলম, এডভোকেট মো.আবদুর রাজ্জাক। আদালতে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এসএম সোহরাব আলী, এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, এডভোকেট আশরাফুজ্জামান, এডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, এডভোকেট মো. আবদুর রশিদ, এডভোকেট লুৎফর রহমান আজাদ, এডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, এডভোকেট শামসুল ইসলাম আকন্দ, এডভোকেট আকতারুজ্জামান সোহেল, এডভোকেট ফিরোজ আলম, এডভোকেট সাজ্জাদ সরওয়ারসহ শতাধিক আইনজীবী।
২০০৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আমির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসাবে নেয়ার জন্য পল্লবী থানাকে নির্দেশ দেন। ২৫ জানুয়ারি পল্লবী থানায় মামলাটি এজাহার হিসাবে রেকর্ড করা হয়।
২৯ জুন গ্রেফতারের পর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মামলাটি জামিন যোগ্য হওয়ায় সরকার আরো পাঁচটি মামলা প্রস্তুত করে রেকর্ড ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত পাঁচটি মামলায় ১৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এগুলো হচ্ছে পল্টন থানার তিন মামলায় ৯ দিন, রমনা থানার একটিতে ৪ দিন এবং উত্তরা থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ৩ দিন করে মোট ১৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

পাতাটি ২৮২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন