logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo জামায়াতের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল ও পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে ১৬, ২০ ও ২৭ জুন দেশব্যাপী ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে আজকে দেশের জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অত্যাচার-নির্যাতন ও ব্যর্থতার কারণে দিন দিন জনমনে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণ এ সরকারকে আর সহ্য করতে পারছে না। সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আজ ঐক্যবদ্ধ দুর্বার আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ার লক্ষ্যেই জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জামায়াতের ওপর নানাভাবে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আমরা সরকারের গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার মাধ্যমে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে আসছি। গত ১৮ মাস সরকারকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের ওপর দমন-নির্যাতন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার আমাদের সে আহ্বানে কর্ণপাত না করে দিন দিন অগণতান্ত্রিক পন্থায় বিরোধী দল দমন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী আজ সরকারের নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্র হত্যার ঘটনার পর থেকে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে সরকার জামায়াতের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। জামায়াত নেতাকর্মীদের তারা রাজপথে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। অন্যায়ভাবে ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ বানচাল করে দিচ্ছে। কোথাও কোথাও ১৪৪ ধারা জারি ছাড়াই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা জামায়াতের সভা-সমাবেশে হামলা চালিয়ে তা বানচাল করে দিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে। নেতাকর্মীদের আহত করা হচ্ছে। গত ৩১ মে বাদ জোহর পটুয়াখালী জেলা জামায়াত কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় জেলা আমির মাওলানা একেএম ফখরুদ্দিন খানের ওপর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। অথচ এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। ১৩ জুন ঝিনাইদহ শহর জামায়াত কার্যালয়ে আলোচনা সভা চলাকালে সেখানে ছাত্রলীগের ২ শতাধিক নেতাকর্মী আক্রমণ করে জামায়াতের ৫০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। অথচ পুলিশ ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে জামায়াতের ৪০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর চেয়ে জুলুম আর কি হতে পারে?
তিনি বলেন, রাজশাহীতে এক ছাত্র হত্যার ঘটনার পরে সরকার এ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের প্রায় ১ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। অনেককে রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের আমির আতাউর রহমানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগে ভুগছেন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিত্সার সুযোগ দেয়ার জন্য আমরা বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকার আজ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়নি। মুক্ত পরিবেশে উন্নত চিকিত্সার জন্য আতাউর রহমানসহ জামায়াত-শিবিরের গ্রেফতারকৃত সব নেতাকর্মীকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তিনি সরকারের প্রতি আবার আহ্বান জানান।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেন, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের পাশাপাশি সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। অথচ গণতন্ত্রের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। গত ১ জুন অন্যায়ভাবে সরকার দৈনিক আমার দেশ-এর মতো একটি জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করে। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর অমানবিকভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি তাকে বিবস্ত্র করে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে তিনি আদালতকে অবহিত করেছেন। সরকারের এহেন অত্যাচার-নির্যাতন, অসভ্য ও মানবতাবিরোধী আচরণের মতো অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া, সরকারি দলের লোকদের ষড়যন্ত্রে অবজারভার পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যমুনা টিভি সম্প্রচারের সুযোগ না দেয়ার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে চ্যানেল ওয়ান ও অবজারভার পত্রিকাটি চালু করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সংবাদপত্র দলন ও সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা দেশবাসীকে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের সেই কালো অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, এ মুহূর্তে নির্বাচন দিলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সরকারের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে উঠেছে বলেই সরকার ভয় পাচ্ছে। চারদলীয় জোটের কার্যক্রম সম্প্রসারিত জোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ জুন কালো দিবস পালন, ২০ জুন আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন, সংবাদপত্র দলন, বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন ইত্যাদির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশে সমাবেশ ও মিছিল এবং গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানি সমস্যার সমাধান, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, দ্রব্যমূল্য কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে ২৭ জুন সারাদেশে শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি সফল করতে ভূমিকা পালন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির মকবুল আহমদ ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. তাসনীম আলম, ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ।

পাতাটি ২৮৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন