logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo হুমকি উত্তর কোরিয়ার : মহড়া দক্ষিণ কোরিয়ার
সাবমেরিন হামলা ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় বৃহস্পতিবার ব্যাপক প্রতিরোধমূলক সামরিক মহড়া চালায় দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী। জাহাজডুবি ঘটনার পর এটি হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম শক্তি প্রদর্শন।
দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনানকে উত্তর কোরিয়া টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনের বিশেষজ্ঞসহ একদল তদন্তকারীর প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত হলে এ মহড়া চালানো হয়। মহড়ায় তিনি হাজার টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রণতরী ও তিনটি টহল নৌযানসহ ১০টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নেয়। পীত সাগরের বিতর্কিত সীমান্তের দক্ষিণে তিয়ান শহরের পশ্চিম উপকূলে একদিনের এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এ মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে দক্ষিণের সঙ্গে প্রায় সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সিউল কোনো ধরনের অপপ্রচার চালালে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সর্বশেষ যে সড়ক সংযোগ রয়েছে, তা বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তাছাড়া এ সপ্তাহে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে সিউল আরও অগ্রসর হলে তাদের সঙ্গে যুদ্ধের হুমকিও দিয়েছে পিয়ংইয়ং। এদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চাপের মুখে চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বৈরী এই দু’দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ফলে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এদিকে অধিকাংশ বিশ্লেষকই মনে করেন, দেশ দুটির কোনোটিই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। তবে আরও বেশি খণ্ডযুদ্ধ, বিশেষ করে তাদের পশ্চিম উপকূলের বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে যুদ্ধ হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, এ ইস্যুর প্রভাব বাজারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। অবশ্য দু’দেশের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের কারণে এ সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে দরপতন ঘটলেও এখন অবস্থা ততটা খারাপ নয়। বর্তমান উত্তেজনা যেন যুদ্ধে পরিণত না হয়, সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। উত্তর কোরিয়াকে তাদের মনোভাব থেকে সরিয়ে আনতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন চীনকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দেয়া থেকে বিরত থাকতে উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হিলারি। তিনি জানান, পিয়ংইয়ং নেতারা যেন যুদ্ধজাহাজ চেওনান ডুবে যাওয়ার ঘটনা স্বীকার করে, সেজন্য ওয়াশিংটন বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করবে।
নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিতে যৌথ যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাতে অংশগ্রহণের জন্য চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আলোচনার জন্য বুধবার সিউলে ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে সফরকারী অন্যান্য কর্মকর্তা জানান, চেওনান ডুবে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় বিষয়ে আলোচনায় চীন প্রস্তুত থাকতে পারে; পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তারা আবারও চিন্তা করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত সপ্তাহে জাহাজডুবির ঘটনায় প্রকাশিত তদন্তের ফলাফল বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু বলেনি বেইজিং। তদন্তের ফলাফলে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া যে যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, সে বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। তবে শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ কোরীয় দ্বীপ জেজুতে আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট ওয়েন জিয়াবাও। এসময় দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত্ হবে। তখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যেতে পারে বলে আশা করছেন দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা। সম্মেলনে জাপানি প্রধানমন্ত্রী উকিও হাতোয়ামাও অংশ নেবেন। তারা এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

পাতাটি ২৯২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন