logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ১০০ কোটি লোক বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হতে পারে :- আল গোর
জলবায়ু-বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট আল গোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মেরু অঞ্চল ও হিমালয়ের বরফ রেকর্ড পরিমাণে গলে যাওয়ায় বিশ্বের ১০০ কোটি লোক বিশুদ্ধ পানি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তুষারধসের ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের দেওয়া ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আল গোর গত সোমবার নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ কথা বলেন।
‘মেল্টিং স্নো অ্যান্ড আইস: এ কল ফর অ্যাকশন’ শীর্ষক নতুন এ গবেষণার ফল উপস্থাপনকালে গোর বলেন, ২০০৭ সালের তুলনায় ২০০৮ সালে তুষারধস বেশি হয়েছে। আল গোর ও নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের পৃষ্ঠপোষকতায় এ গবেষণা করা হয়। গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরির নেভাল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধ্যাপক ওয়েসলো মাসলোস্কি।
গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে গোর বলেন, ‘গবেষণাটি একদমই নতুন। এটি গতকালই (রোববার) আমি হাতে পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে গ্রীষ্মের ঋতুতে মেরু অঞ্চলের বরফ পুরোপুরি উধাও হয়ে যাওয়ার ৭৫ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে।’ গোর বলেন, ‘বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি লোকের সুপেয় পানির বেশির ভাগের উত্স হলো হিমবাহ ও তুষারধস।’
বিজ্ঞানীরা গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, উত্তর মেরুর বরফ গলে ২০০৭ সালে এটি সবচেয়ে ছোট আকার ধারণ করেছিল। তবে ২০০৮ সালেই আবার এর পরিমাণ বেড়েছে।
কিন্তু পরিমাপে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের তুলনায় ২০০৮ সালে উত্তর মেরুর বরফ আচ্ছাদিত এলাকা ৪৫ লাখ বর্গকিলোমিটার ছোট হয়েছে। সুমেরু অঞ্চলের বরফের আচ্ছাদন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব না ফেললেও বৈশ্বিক উষ্ণতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গবেষক দলের অন্যতম রবার্ট কোরেল জলবায়ু পরিবর্তনের আরও একটি ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে বছরে শত শত কোটি টন বরফ উধাও হয়ে যেতে পারে। এ কারণে বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। জাতিসংঘের আগের হিসাবের চেয়ে যা দ্বিগুণ।
কোরেল বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে ১০ কোটি লোককে বাস্তুহারা হতে হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কাজ করায় ২০০৭ সালে শান্তিতে নোবেল পান আল গোর।

পাতাটি ৪০৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন