logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo মুক্তি সংগ্রামের এক দীপ্যমান অধ্যায় রাজশাহী পুলিশ লাইনের যুদ্ধ
পাক হানাদারদের বিরম্নদ্ধে এদেশের পুলিশ বাহিনীর আমরণ সংগ্রামের দীপ্যমান অধ্যায়ের অন্যতম রাজশাহী পুলিশ লাইনের সদস্যদের লড়াইয়ের অধ্যায়। মার্চের সেই ঘটনার জন্য আজও সেইসব শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে রাজশাহী মহাগরীর সর্বসত্মরের মানুষ। ১৯৭১ সালে পুলিশের সহযোগিতা না পাবার অজুহাত তুলে পাক বাহিনী পুলিশ লাইনে হামলা করার পরিকল্পনা করে। পাক সরকারের সব ধরনের অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ অমান্য করে রাজশাহী পুলিশ লাইনের বীর সেনারা। ফলে পাক সেনাদের হামলার শিকার হন তারা।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাক সেনারা রাজশাহী পুলিশ লাইন দখল করার জন্য পুলিশের ওপর অতর্কিত গুলি বর্ষণ করে। উভয় পড়্গের মধ্যে শুরম্ন হয় লড়াই। এসময় পার্শ্ববর্তী এলাকার জনগণ পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসে। শুরম্ন হয় গুলি বিনিময়। পাক সেনাদের গুলিতে নিহত হন পুলিশসহ সারধারণ মানুষ। ২৭ মার্চ সকাল থেকেই কার্ফু চলছিল সারাদেশে। সেই সাথে সকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে উভয় পড়্গের গোলাগুলি না করার মতামত ব্যক্ত করলেও ঐদিন দুপুর আড়াইটার দিকে শহর কাঁপিয়ে পাক সেনারা পুলিশ লাইনে মর্টার শেলিং শুরম্ন করল। পুলিশ লাইন চত্বরে বয়ে যায় রক্তের বন্যা।

২৮ মার্চ পর্যনত্ম চলে গোলাগুলি। কিন্তু পাক হানাদাররা পুলিশ লাইনের পতন ঘটাতে পারে না। তারা বারবার বাঙ্গালি পুলিশকে আত্মসর্মপণের আহবান জানায়। কিন্তু বীর পুলিশ বাহিনী সদস্যরা আত্মসমর্পণের চেয়ে মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে প্রাণপথ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। দুপুর ২টা পর্যনত্ম চলে লড়াই। এতে প্রচুর সংখ্যক পাক সেনা হতাহত হয়। পাক সেনারা নদীর ধার দিয়ে বাঁধ অতিক্রম করে পুলিশ লাইনে ঢুকে পড়ে এবং বহু পুলিশকে হত্যা করে বেয়নেট চার্জ করে। পুলিশ বাহিনী তখন বুঝতে পেরেছিল এই অসম যুদ্ধে তারা কোনভাবেই জিততে পারবে না। তারপরও তারা লড়াই চলিয়ে যায়।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ হন ডিআইজি মামুন মাহমুদ, ২৮ মার্চ যে সব পুলিশ শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন পুলিশ কনস্টেবল ওসমান খান, আব্দুর রহমান, আক্কাস আলী, রইচ উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল মালেক, সিরাজুল ইসলাম, মেছের আলী, আলাউদ্দিন, আব্দুল হামিদ, আব্দুল আজিজ মোলস্না, সাদেকুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, একেএম সায়েম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং রাজু ফজর।

৩১ মার্চ তৎকালীন রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টের ক্যাপ্টেন সোলেমান জিজ্ঞাসাবাদ করার নামে এসপি শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মজিদকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। ১১ এপ্রিল শহীদ হন এসআই দিলসাদ বিশ্বাস, ১২ এপ্রিল শহীদ হন হাবিলদার রমজান আলী, ১৪ এপ্রিল এসআই আফতাব উদ্দিন, ২১ এপ্রিল কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিন, জব্বার আলী, আব্দুর রওফ, আব্দুল আজিজ, মহিউদ্দিন, আব্দুল হামিদ, আব্দুল ওয়াদুদ। ২৪ এপ্রিল শহীদ হন হাবিলদার রফিকুল ইসলাম, ২৮ এপ্রিল কনস্টেবল মীর আলাউদ্দিন, খন্দকার শাহজাহান এবং সুবেদার মোহাম্মদ আলী মন্ডল, ১২ মে শহীদ হন কনস্টেবল আব্দুল মাহমুদ, খোদা বখস, শামসুল হক, হযরত আলী, সোলায়মান সরজী এবং হাবিবুর রহমান। ১৪ মে শহীদ হন এস.আই হেদায়েত আলী। ১৫ মে শহীদ হন হাবিলদার আব্দুস সাত্তার। ২০ মে শহীদ হন কনেস্টবল ইজ্জত আলী এবং আফসার আলী। ১২ জুন শহীদ হন এসআই মহসীন আলী, ২১ জুন শহীদ হন হাবিলদার তামেজ আলী। ১২ জুলাই শহীদ হন এএসআই এজাজ আলী এবং জিন্নাত আলী। ২১ অক্টোবর শহীদ হন এসপি আয়েস উদ্দিন এবং বাবর আলী। ২০ নভেম্বর শহীদ হন আশরাফুল আনোয়ার এবং ২১ নভেম্বর শহীদ হন হাবিলদার মোসলেম আলী।

পুলিশ লাইনে পাকিসত্মানি সেনাদের হাতে শহীদ ডিআইজি মামুন মাহমুদ স্মরণে পুলিশ লাইনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শহীদ মামুন মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজ। এছাড়াও অন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ আর্মড এসআই এনায়েত খানের নামে পুলিশ লাইনের ভিতরে একটি সড়ক, শহীদ কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিনের নামে একটি সড়ক এবং শহীদ এনায়েত আলীর স্মরণে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ লাইনের ভিতরে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ পুলিশ স্মরণে একটি শহীদ স্মৃতিসত্মম্ভ।

পাতাটি ৩৪৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন