logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo লিটনের বিরুদ্ধে মিনুর অনিয়মের অভিযোগ
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৯টি অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন। গতকাল শনিবার মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সাবেক মেয়র বলেন, মেয়র নির্বাচনের আগে দেওয়া ২৩ দফা প্রতিশ্রুতির কিছুই পূরণ না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। মেয়র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে ২০ শতাংশ হারে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এর আগের দিন শুক্রবার মহাজোটের পক্ষ থেকে রাজশাহীতে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে মেয়র খায়রুজ্জামান ও রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা গত ৫ মে রাজশাহীতে বিএনপির মহাসমাবেশে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মিজানুর রহমানের ভাষণকে মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
গতকাল পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান মহাজোটের দাবিকে চরম মিথ্যাচার উল্লেখ করে তাদের ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। তিনি বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, প্রচারপত্র বিলি ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার ঘটনারও নিন্দা জানান।
লিখিত বক্তব্যে সাবেক মেয়র অভিযোগ করেন, বিধি লঙ্ঘন করে বাগমারার সাংসদ এনামুল হক ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার আওয়ালের সঙ্গে ২০ শতাংশ লাভে গোপন চুক্তিতে বর্তমান মেয়র শহরে তিনটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি রাজশাহীতে গ্যাস-সঞ্চালন লাইনের কাজ নিজের ভগ্নিপতিকে দিয়ে করাচ্ছেন। মেয়রের গাড়িতে অবৈধ মালামাল রাজশাহী থেকে ঢাকায় যাচ্ছে বলেও সাবেক মেয়র অভিযোগ করেন।
মিজানুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের কথা বলে সহস্রাধিক বেকার নারী-পুরুষের কাছ থেকে মেয়র প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা বলে মেয়র এখন অবৈধ অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত। তার মদদে একাধিকবার ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে অনেক সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন।
সাবেক মেয়র বলেন, মেয়র নিজের মেয়ের পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করতে না পেরে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বদলির হুমকি দেন। নিজ ক্যাডার বাহিনী দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। মেয়রের বিরুদ্ধে গোদাগাড়িতে এক মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখল করে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার আওয়ালের সঙ্গে মাছের খামার করার অভিযোগও করা হয়। ৪০ জন কাউন্সিলরের বরাত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার মেয়রের পক্ষে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল সেখানে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে মিজানুর রহমান দাবি করেন।
সাবেক মেয়র বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি সাক্ষাৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান মেয়র সময় দিচ্ছেন না। প্রতিদিন শত শত সাক্ষাৎপ্রার্থী নগরভবন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আর মেয়র দলীয়করণ ও তদবির-বাণিজ্যে ব্যস্ত। নাগরিক-সুবিধা বৃদ্ধির পরিবর্তে মেয়র কর বাড়িয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহুরুল ইসলাম, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক, রফিকুল হক, তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বলেন, আমরা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের সমাবেশে দেওয়া মিথ্যা ভাষণের প্রতিবাদ করেছি। অথচ সাবেক মেয়র তাঁর সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কুরুচিপূর্ণ অসত্য ও মানহানিকর কথা বলেছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এর জবাব দেব।

পাতাটি ৩৩১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন