logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আর সময় দেওয়া যায় না: খালেদা
আন্দোলন কর্মসূচি শিগগিরই ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারকে আর সময় দেওয়া যায় না।

ঢাকায় সমাবেশে কোনো ধরনের বাধা এলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে অনুমোদন না করতেও সরকারকে সতর্ক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিএনপির কোনো ধরনের আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালে ওই সময়কার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ জাতিসংঘের কথা বলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে বিভ্রান্ত করে জরুরি অবস্থা জারি করিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

খালেদা শনিবার বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ওই সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আইনজীবীরা অংশ নেন।

সমাবেশে ব্যারিস্টার রফিক উল হক জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব করলে বিএনপি নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে একটি কমিশন গঠন করবেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা বলেন, দেশের অবস্থা ভালো নয়। এ সরকারকে ১৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তারা জনগণের কল্যাণে কিছুই করেনি, বরং দেশবিরোধী চুক্তি করেছে। তাই দেশের মানুষ সরকারের বদল চায়।

"তাই ১৯ মে ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবো। ওই কর্মসূচিতে বাধা দিলে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে", বলেন তিনি।

বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশের পরই বিএনপি ঢাকায় সমাবেশ করছে। বিভাগীয় সমাবেশে নেতা-কর্মীদের যোগ দিতে সরকার সমর্থকরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার রাজশাহীতে সমাবেশগামী বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলায় একজন নিহত হয়।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, "ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুণ্ডামীতে দেশের মানুষ আজ ভীত-সন্ত্রস্ত্র। আওয়ামী লীগের হাতে আজ গণতন্ত্রও নিরাপদ নেই। তারা নতুন কৌশলে একদলীয় বাকশালে ফিরে এসেছে।"

বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা শুরু থেকে এ সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু গত ১৬ মাসে সরকারি দল দুর্নীতি আর লুটপাট করেছে। জনগণকে দেওয়া কোনো প্রতিশ্র"তি রক্ষা করেনি, বরং বিদেশিদের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে কাজ করছে।"

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো 'দেশবিরোধী' চুক্তি না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা বলেন, "বিরোধী দলকে দুর্বল ভাববেন না। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।"

সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা 'অবৈধ' তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের 'দয়ায়' এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা বলেন, "মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতিকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করে জাতিসংঘের চিঠি আছে বলে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। আসলে জাতিসংঘ জরুরি অবস্থা জারির জন্য কোনো চিঠি দেয়নি।

"রেনেটা (ঢাকায় জাতিসংঘের সাবেক আবাসিক সমন্বয়ক রেনেটা লক ডেসালিয়ন) দেশ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তা বলে গেছেন। আজ এটা স্পষ্ট মইন উ আহমেদ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জোর খাটিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করিয়েছিলেন।"

বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক সেনাপ্রধানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মামলা ক্ষমতায় গেলে পুনর্জীবিত করার হুমকি দেন খালেদা।

তিনি বলেন, "আমরা (জোট সরকার) কোনো দুর্নীতি করিনি। এখন যেসব দুর্নীতি হচ্ছে, তার কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। আপনারা এখন ক্ষমতার জোবে যে সব মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন, তা আবার সক্রিয় করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে খালেদা বলেন, "আমরাও মনে করি, এর বিচার হওয়া উচিৎ। তবে বিচারের আগে অবশ্যই আপনাদের (সরকার) দলের লোকজন যারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করুন। তারপর বিচার করুন। নইলে তা বুমেরাং হবে।"

বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় গেলে স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের তিন বছরের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ বর্তমান সরকার আমলে সব হত্যারও বিচার করা হবে বলে জানান বিরোধী নেতা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির অর্ধ শতাধিক নির্বাচিত সদস্যের বক্তব্যের পর খালেদা বক্তব্য রাখেন।

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে অনিয়ম হচ্ছে দাবি করে এর সমালোচনা করেন তিনি।

আইনজীবীদের উদ্দেশে খালেদা বলেন, "সুপ্রিম কোর্টে 'ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের ভুত' রয়েছে। তাই আন্দোলন করে দেশ থেকে ভুত তাড়াতে হবে।"

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক উল হক সমাবেশ চলার সময় এসে পৌঁছালে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। মঞ্চে খালেদা জিয়ার পাশে বসানো হয় তাকে।

ব্যারিস্টার রফিক বলেন, "বিচার বিভাগের অধঃপতন ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্টে এখনো ১/১১ এর ভুত ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি বলি, মিলাদ পড়িয়ে ওই ভুত তাড়াতে পারলে বিচারাঙ্গনের পরিবেশ ফিরে আসবে।"

জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি কোনো রাজনীতি করি না। ১/১১ এর ওপর সরকার অথবা বিরোধী দল একটি কমিশন গঠন করে সে সময়ে ঘটনাবলি রেকর্ড রাখতে পারেন। যাতে আর কেউ এ রকম পরিস্থিতি ঘটানোর সাহস না পায়।"

স্বাগত বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে বিচারের নামে 'প্রহসন' চলছে। এর প্রতিবাদ জানাতে হবে, প্রতিহত করতে হবে।

বর্তমান সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং তার পর নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টিএইচ খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মওদুদ আহমেদ, মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিঞা, নাজমুল হুদা, আমিনুল হক, শাহজাহান ওমর, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, আহমেদ আজম খান, বদরুদ্দৌজা বাদল প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ, আরএ গনি, তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, আসম হান্নান শাহ, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া।

খালেদা সমাবেশস্থলে এলে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা বিরোধী নেতাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন আইনজীবীরা।

পাতাটি ২৮৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন