logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আওয়ামী লীগই লাগামহীন, দেশ চালাবে কীভাবে: খালেদা
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সরকার পরিচালনায় তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

দেশে বিদ্যুতের 'কৃত্রিম' সঙ্কট তৈরি করে বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ সরকারদলীয়দের দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

দলের নেতা-কর্মীদের সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, আগামী মে মাসে ঢাকার সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বুধবার রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খালেদা। শহরের মাদ্রাসা ময়দানের ওই জনসভায় বৃষ্টির মধ্যেও ব্যাপক সংখ্যক বিএনপি নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণ দেখা যায়।

উত্তরাঞ্চলের ১৮টি জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা এ সমাবেশে যোগ দেন বলে বিএনপি নেতারা জানান। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থকরা তাদের বাধা দিয়েছে। নাটোরে ছাত্রলীগকর্মীদের হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার এক বিএনপি নেতা।

বেলা পৌনে ৩টায় জনসভা শুরুর আগেই ময়দান ছিলো কানায় কানায় ভর্তি। বৃষ্টির মধ্যেই খালেদা বক্তব্য শুরু করেন সোয়া ৪টার দিকে। টানা এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, "ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠন সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ সরকার তার দলের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তারা দেশকে কীভাবে চালাবে?"

"সরকারের এক নম্বর থেকে শুরু করে দুর্নীতিতে সবাই ব্যস্ত", প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন বিরোধী নেতা।

সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্র"তি ভঙ্গ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি কোনো সমস্যারই সমাধান করতে পারেনি সরকার। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

"ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন লুটপাট করে দেশকে শেষ করে ফেলেছে। ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে দেশকে। তাদের সঙ্গে আঁতাত করে এ সরকার ক্ষমতায় এসে পিছিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিতা বজায় রেখেছে।"

ভারতকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে খালেদা বলেন, "তারা (সরকার) কেবল বিদেশিদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্র"তিগুলো বাস্তবায়নে ব্যস্ত।"

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সঙ্কটের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, "নিজের লোকজনকে বিনা টেন্ডারে বিদ্যুৎ প্রকল্প পাইয়ে দিতে বিদ্যুতের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। দলীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের কাজ দেওয়ায় তিন বছরে দেশের ৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হবে।"

বর্তমান বিদ্যুৎ সঙ্কটের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করে বলে আসছে, ওই সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়নি। বরং এ খাতে দুর্নীতি হয়েছে।

সরকারি দলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে খালেদা বলেন, তার সরকারের আমলে ৫ বছরে ১৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।

বিএনপি বিভাগীয় শহরগুলোতে যে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিলো, রাজশাহীরটি তৃতীয়। আগের সমাবেশ দুটি হয় চট্টগ্রাম ও খুলনায়।

সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা বলেন, চট্টগ্রাম ও খুলনার মানুষের কাছে আন্দোলনের দাবি শুনেছি।

কর্মসূচি দিলে রাজপথে থাকবেন কিনা- চেয়ারপারসন জানতে চাইলে রাজশাহীর নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সমস্বরে 'হ্যাঁ' সূচক ধ্বনি তোলেন। কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে সমাবেশ থেকে হরতালের স্লোগান দেওয়া হয়।

এরপর খালেদা বলেন, "খুব শিগগিরই কর্মসূচি দেওয়া হবে। বরিশালে সমাবেশে ১২ মে, এরপর ঢাকায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে আমরা এরশাদকে হটিয়েছি। ১৯ মে ঢাকার সমাবেশ থেকে আন্দোলনে কর্মসূচি দেওয়া হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন।"

১৯৮৬ সালে এরশাদের সময় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের অংশগ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, "স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। আজ বলা হচ্ছে- আমাদের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে। আমি বলবো, তাদের আঁতাত আমাদের সঙ্গে নয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে।"

একাত্তরের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার শুরুর প্রস্তুতিতে জোটসঙ্গী মুক্তিযুুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি অস্বস্তিতে আছে- বিভিন্ন সংবাদপত্রে স�প্রতি এ ধরনের খবর ছাপা হয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন খালেদা।

তিনি বলেন, "এ নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ কখনোই ছিলো না, এখনো নয়। তারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করেছে।"

জোট সরকারের আমলের বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা বলেন, এখন কোনো পণ্যই মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মায় পানি প্রবাহ কম জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে ভারতের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকার অবশ্য বলছে, বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর- এমন কিছু করা হবে না নয়াদিল্লির আশ্বাস মিলেছে।

খালেদার জনসভা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ছিলো মাদ্রাসা ময়দানে। র‌্যাব, পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সতর্ক প্রহরা দেখা যায়। সমাবেশস্থলে মূল মঞ্চের কাছাকাছি চারপাশে বসানো হয় আটটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

মাদ্রাসা ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পুলিশ গাড়ি চলাচল দুপুর থেকেই বন্ধ করে দেয়। তবে দুপুরের পর জনসমাগম ময়দান ছাড়িয়ে যায়। পাশের দরগাপাড়া, পাঠানপাড়া, সাহেব বাজারসহ আশপাশের এলাকার বড় দালানের ছাদেও মানুষকে দেখা যায়।

বিএনপি নেতারা জানান, ময়দানের বিভিন্ন স্থান থেকে যেন বক্তব্য ভালোভাবে শোনা যায়, সে জন্য ২০০টি মাইক লাগানো হয়, বড় পর্দায় তা দেখানোর ব্যবস্থাও করা হয়। তবে বৃষ্টির কারণে বড় পর্দায় তা দেখানো যায়নি।

সমাবেশ স্থলের বিভিন্ন অংশে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় প্রতিকৃতি টানানো ছিলো।

ঢাকা থেকে রওনা হয়ে খালেদা রাজশাহী সার্কিট হাউজে পৌঁছান দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে। ২০ মিনিট অবস্থানের পরই তিনি সমাবেশস্থলে যান। মঞ্চে ওঠার পরপরই তিনি বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

সভা মঞ্চে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমান পটল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন নাদিম মোস্তফা, হারুনুর রশিদ, কামরুল মনির, শফিকুল হক মিলন, আজিজুর রহমান প্রমুখ।

খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দুই শতাধিক তোরণ তৈরি করা হয়। বিভিন্ন স্থানে উড়ছিলো দলীয় পতাকা।

সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার পথে রওনা হন খালেদা। এর আগে ডাক বাংলোয় রাজশাহীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পাতাটি ৩০৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন