logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আমারে রুটি বানানোর বেলুন দিয়া মারি রক্ত বের করি দিছে
‘স্যার আমারে রুটি বানানোর বেলুন দিয়া চোকে ও কপালে মারি রক্ত বের করি দিছে। বুট দিয়া বুকে ও প্যাটে ডলা দিছে। তাতেও রাগ মিটেনি। তিন দিন ধরি আমাক বাথরুমে আটকায়ে রাকিছে।


দিনে শুধু একটা রুটি দিয়া বুলতো, ‘খা কুত্তা, খা !’ গত শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) লালপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন দক্ষিণ লালপুর গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের পুত্র তহিদুল ইসলাম (৯) এভাবে তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।


তার অভিযোগ, ব্যাটম্যান হিসেবে কাজ করা কালে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম ওরফে শকিফ ও তাঁর স্ত্রী এই নির্যাতন চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে তার মা জহুরা বেগম লালপুর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। তবে ক্যাপ্টেন শফিকের দাবী. চুরির অভিযোগে তাকে শুধু চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে।


শুক্রবার দুপুরে উপজেলা স্বাস'্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৬ নম্বর বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু তহিদুল। বুক পেট ফুলে গেছে। খাদ্য নালির ব্যাথায় খেতে ও কথা বলতে কষ্ট পাচ্ছে।


তবুও ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে জানায়, শুধু ছেলে রাখার কথা বলে তাকে নিয়ে গিয়ে বাথরুম পরিস্কার, ঘরদুয়ার ও আসবাব পত্র পরিস্কার, থালাবাসন ধুয়া, কাপড় চোপড় পরিস্কার করা ও সিগারেট এনে দেওয়ার কাজ করাতো। কাজে একটু ক্রটি পেলেই শারিরিক নির্যাতন চালানো হতো।


সে মাথা, মুখমন্ডল, গলা, চোখ, হাত-পা ও বুকে ৩২টি আঘাতের চিহ্ন দেখায়। অধিকাংশ আঘাত শুকিয়ে গেলেও চোখের মণিতে রক্ত জমে থাকা ও কপালের ভ্রুতে কাটা জখম এখনও রয়েছে। এই দুটি আঘাত করা হয় গত ২৪ এপ্রিল। তার বিরুদ্ধে পাঁচ‘শ টাকা চুরির অভিযোগ করা হয়।


টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করার সাথে সাথে তাকে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে বুট দিয়ে পেট ও বুকে ডলা দেওয়া হয়। কিছু সময়ের জন্য সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলেও জানায়। এই ঘটনার জন্য তাকে তিন দিন বাথরুমে আটকে রাখা হয়। দিনে একটা রুটি দিয়ে বলা হতো,‘ খা কুত্তা, খা ! অবশেষে চুরি যাওয়া টাকা তাদের নিজেদের বিছানার নীচে খুঁজে পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।



গত ২৮ এপ্রিল তাকে লালপুর এনে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভর্তি করার দিন তহিদুলের অবস'া খুবই খারাপ ছিল। সারা শরিরে মারপিটের চিহ্ন রয়েছে। পেট ফুলে যাওয়াতে সে খেতেও পারছিল না। তবে ধীরে ধীরে সে সুস' হয়ে উঠছে।



হাসাপাতালে তহিদুলের পাশে বসা ছোট বোন রিক্তা বলেন, চার ভাইবোন রেখে আব্বা মারা গেছে অনেক দিন আগে। মা ধানের চাতালে কাজ করে। অভাবের দায়ে তহিদকে ক্যাপ্টেন স্যারের কাছে রাখিছিনু। কিন' স্যার আমার ভাইডারে শেষ করি দিছে। কথা শেষ না করেই সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।



তহিদুলের মা জহুরা বেওয়া বলেন, পেটের দায়ে ছেলিক স্যারের কাছে রাখিছিনু। কিন' স্যার যে ছেলিডাক এভাবে অত্যিচার করবি, তা ভাবিনি। বিচার পাব কি না জানিনি। তবে লালপুর থানায় একটা মামলা দিছি। না হলে আল্লায় বিচার করবি।


এ ব্যাপারে মানবাধিকার বাস-বায়ন সংস'া নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল ওহাব বলেন, আইনের দৃষ্টিতে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ। উপরন- কর্মজীবি শিশুকে মারপিটের এই ঘটনা খুবই মর্মানি-ক ও অন্যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন- করে প্রয়োজনীয় ব্যবস'া নিবেন বলে আমি আশা করছি।


ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ৫‘শ টাকা মাইনে দিয়ে তাকে রেখেছিলাম। কিন' তহিদ অসম্ভব বেয়াদব। সে আমাদের অনুপসি'তিতে ঘর অপরিস্কার করে রাখতো। আমার ছেলের খাবার খেয়ে নিতো। মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করতো। তাই রাগ সামাল দিতে না পেরে ওকে চড় থাপ্পড় দিয়েছিলাম। আমি বা আমার স্ত্রী তাকে নির্যাতন করিনি। তবে তাকে র‌্যাব বা থানায় না দিয়ে ভূল করেছি।



লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে ঘটনাস'ল ঢাকায় হওয়ায় অভিযোগটি আমরা মামলা হিসেবে নিতে পারছি না। সাধারণ ডায়রী করে লিখিত অভিযোগটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেবো।

পাতাটি ৩৮৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন