logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীতে চলছে বিএনপির বিভাগীয় মহা-সমাবেশের প্রস্তুতি
ভোলা-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের পর রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোলা-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে, এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে এবং নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে আগামী ৫ মে রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকার পতনের ডাক দিতে পারেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

দেশব্যাপী আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাস, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যর উর্ধ্বগতি, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ছাড়াও নানা সমস্যাকে ইস্যু করে রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ থেকে বিরোধী দল আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলের নেতা-কর্মীরা জানান। অন্যদিকে প্রতিটি নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপি ভালো করলেও গত নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। বিএনপির আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র থেকে আলাদা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এ মহাসমাবেশকে। এসমাবেশ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঘোষনা আসলে বিএনপির জন্য তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে বলে দলের সিনিয়র নেতারা মনে করছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনার জন্য রাজশাহীর সমাবেশকেই বেছে নিয়েছেন বলে দলের সিনিয়র নেতারা দাবি করছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ভোলা-৩ উপনির্বাচনের পর রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ৫ মের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের অন্য সব কমিশনারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় মহাসমাবেশ থেকে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।

এদিকে মহাসমাবেশকে সামনে রেখে রাজশাহী ছাড়াও পুরো উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। দলের পুরোনো কোন্দল ভুলে সবাই মহাসমাবেশকে সফল করতে একযোগে কাজ করছে। প্রতিদিন দলীয় নেতা-কর্মীরা স্ব স্ব এলাকায় প্রচার মিছিলসহ মাইকিং করছে। রাজাশাহী বিএনপিতে বড় ভাই-ছোট ভাই দ্বন্দ্ব থাকলেও সে সব ভুলে বিএনপি এখন শুধু মহাসমাবেশ সফল করতে কাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, রাজশাহী বিএনপিতে যে কোন্দল ছিল মহাসমাবেশের কারণে তা মিটে গেছে।

তবে সমাবেশের পর এ কোন্দল আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে কিনা এমন প্রশ্নও রয়েছে কর্মীদের। দলের নেতারা বলছেন, এখন সকল কোন্দল ভুলে গিয়ে দলকে বাঁচাতে হবে তারপর ভিন্ন কথা। কারণ গত নির্বানে বিএনপির যে ভরাডুবি ঘটেছে তা থেকে দলকে উদ্ধার করতে হবে। দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের এখন একটাই লক্ষ্য, দলীয় প্রধান রাজশাহীর মহাসমাবেশে যে কর্মসূচীর ঘোষনা দেবেন তার বাস্তবায়ন যেন রাজশাহী আঞ্চল থেকেই শুরু করা যায়। সেরকম প্রস্তুতিও তারা নিয়ে রাখছেন বলে মিনু জানান।

অন্যদিকে, ৫ মে র বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে রাজশাহীতে সাজ সাজ রব। এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রচার শুরু হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ৬০০ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিনই চলছে মিছিল-মিটিং, সমাবেশ। বিএনপির সমাবেশকে সফল করতে আগামী ৪ মে পর্যন্ত কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। ৪ মে কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহীতে একটি প্রচার মিছিলে অংশ নেবেনে। মহাসমাবেশে কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর জন্য কাজ করছেন দলীয় নেতা-কর্র্মীরা।

পাতাটি ২৭৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন