logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পুনর্বাসনের আড়ালে দখল প্রক্রিয়া !
রাজশাহী নিউ মার্কেটের প্রধান ফটকের দু'পাশে চলছে দখলের প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে নিউ মার্কেটের সৌন্দর্যহানি ও নকশা লঙ্ঘন করে সামনের দেয়াল ঘেঁষে ২২টি পাকা স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সবজিবাজারে নির্মাণাধীন বহুতল বিপণি বিতানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অন্তর্বর্তীকালীন পুনর্বাসনের জন্য এসব দোকান নির্মাণের কথা বলা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মুদি দোকানদার সাজিয়ে তাদের নামেই এক বছরের জন্য দিনপ্রতি ৫ টাকা হারে টোলের বিনিময়ে এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এক বছর পর রাসিকের বিপণি বিতানে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে এসব প্রভাবশালীও দোকান বরাদ্দ পাবেন।


রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নিউ মার্কেটের পেছনে সবজিবাজারে দারুচিনি প্লাজা নামের একটি বহুতল বিপণি বিতান নির্মাণ শুরু করায় সেখানকার ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়। রাসিক প্রকৌশল শাখার একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে দারুচিনি প্লাজা নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অন্তর্বর্তীকালীন পুনর্বাসনের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। পরে মানবিক দিক বিবেচনায় রাসিক মেয়রের বিশেষ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক বছরের জন্য পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় রাসিকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে। মিলুর ভাই নূর কুদরি আলম মনু নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হওয়ায় তিনিও পুনর্বাসনে ভূমিকা পালন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাসিকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুনর্বাসনের জন্য ১২৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়।



সেই তালিকা অনুযায়ী প্রথম দফায় নিউ মার্কেটের উত্তরে রাসিকের ড্রেনের ওপর ও নিউমার্কেটের পশ্চিমে ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে তালিকার মধ্য থেকে ১০২ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসন করা হয়। বাকিদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মাণ করা হয় নিউ মার্কেটের সামনে মূল ফটকের পাশে ২২টি স্থায়ী দোকানঘর। রাসিক তাদের সবাইকেই এক বছর পর দারুচিনি প্লাজায় স্বল্পমূল্যে দোকানঘর বরাদ্দ দেবে।



সমকালের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাসিকের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন পুনর্বাসনের জন্য যে তালিকা দেওয়া হয়, এর মধ্যে ২৪ জনকে মুদি দোকানদার হিসেবে উল্নেখ করা হলেও উচ্ছেদকৃত সবজিবাজারে তাদের কোনো মুদি দোকানের ব্যবসা ছিল না। এদের মধ্যে কয়েকজনের দোকানঘর থাকলেও তা ব্যবহার করা হতো তাদের নিজস্ব চেম্বার হিসেবে। অথচ তাদেরই নিউ মার্কেটের সামনের বহুমূল্য জায়গায় তৈরি স্থায়ী স্থাপনায় দোকান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।


পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় এ ব্যাপারে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ব্যবসায়ীই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যে তালিকা রাসিকে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে মুদিখানা ব্যবসায়ী রয়েছেন ৪২ জন। এদের মধ্যে কেবল ২৪ জন মুদি দোকানদার ছাড়া অন্যদের পুনর্বাসন নিউ মার্কেটের উত্তর ও পশ্চিমে অস্থায়ী স্থাপনাতেই হয়ে গেছে। নিউ মার্কেটের সামনের পাকা স্থায়ী দোকানগুলো ২৪ প্রভাবশালীকে পুনর্বাসনের নামে বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে।


এ ব্যাপারে রাসিকের বৈষয়িক কর্মকর্তা রিপন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সচিব আবদুস সালামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দায়িত্বে রয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল আলম মিলু দাবি করেন, কাউকেই স্থায়ীভাবে থাকতে দেওয়া হবে না। এক বছর পর তাদের চলে যেতে হবে।

পাতাটি ২৮৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন