logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo বিএনপি কর্মী খুন : সড়ক অবরোধ
রাজশাহীর বায়ার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বুধবার সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হাতে একরাম হোসেন (৪৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি এলাকায় মিশুক চালাতেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় এমপি মেরাজ মোল্লা ও আওয়ামী লীগ নেতারা নোংরা রাজনীতি করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের ইন্ধনে শাহ মখদুম থানার পুলিশ নিহতের ছেলেসহ ৩ আত্মীয়কে থানায় আটক করে।


ডিউটি অফিসার এসআই রুহুল আমিন জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিহতের ছেলে শামীম, সোহেল এবং ভাই আসলামকে আটক করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় এমপির নির্দেশেই পুলিশ তাদের আটক করে। তবে মেরাজ মোল্লা এমপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসী গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এমরানের লাশ নিয়ে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের বায়া মোড়ে সড়কের ওপর গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং গাড়ি ভাংচুর করে। মিছিলকারীরা এমপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ঘৃণ্য এ কর্মের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এসময় তারা বায়া পুলিশ ফাঁড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট লেগে যায়। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।


এলাকাবাসী জানায়, বায়ার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের একরাম হোসেন কিছুদিন আগে একই গ্রামের দীন মোহাম্মদের কাছে আড়াই কাঠা জমি বিক্রি করেন। দীন মোহাম্মদ একই দাগে অতিরিক্ত জমিটিও দখল করে নেয়। পরে একরাম স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় অতিরিক্ত আধাকাঠা জমি মীমাংসার মাধ্যমে বের করে নেন। কিন্তু দীন মোহাম্মদ একরামকে জমির দখল দেয়নি। পরে বুধবার দীন মোহাম্মদ জরিপকারী দিয়ে জমি মাপতে যায়। একথা শুনে একরাম বাড়িতে বসেই তাদের গালিগালাজ করেন। এ কথা দীন মোহাম্মদের স্ত্রী সাহারা তার স্বামীকে জানায়। এতে দীন মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার জামাই আবদুল গফুর, শ্যালিকা জয়নব হাঁসুয়া এবং লাঠি দিয়ে একরামকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হলে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এরপর লাশ নিতে মেডিকেলে যায় একরামের ছেলে সোহেল, আসলাম এবং নওশাদ। এসময় মেডিকেলে পুলিশ তাদের আটক করে শাহ মখদুম থানায় পাঠায়। আটককৃতদের আত্মীয়স্বজন জানায়, ওই সময় এমপি এবং নওহাটা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও আওয়ামী লীগ নেতা মকছেদ আলী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্টো তাদের আটক করায়। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা পুলিশকে সকাল পর্যন্ত আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার সময় বেঁধে দেয়। সকালেও তাদের না ছাড়া হলে এলাকাবাসী সকাল সাড়ে ৮টা থেকে অবরোধ ও মিছিল করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী সহকারী পুলিশ কমিশনার শামসুর রহমান অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। বেলা পৌনে ১২টার দিকে র্যাবসহ আরও পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে যান চলাচল শুরু হয়। মধ্যস্থতাকারী নওহাটা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, আটককৃতদের মুক্তি দেয়ার শর্তে রাস্তার অবরোধ তুলে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
শাহ মখদুম থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পাতাটি ২৭২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন