logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে রাজি চীন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য একমাত্র বড় হুমকি হচ্ছে পরমাণু-সন্ত্রাস। পরমাণু-সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীরা যাতে পরমাণু বোমা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। গত সোমবার ওয়াশিংটনে পরমাণু সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।


দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ৪৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা অংশ নেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ইরানের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে রাজি হয় চীন। এ ছাড়া ইউক্রেন তার ভূখণ্ডে থাকা সব পরমাণু অস্ত্র রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। পরমাণু বোমা তৈরির সরঞ্জাম বিক্রি না করারও প্রতিশ্রুতি দেয় দেশটি। সম্মেলন শেষে একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়ারও কথা রয়েছে। কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পরমাণু বোমা তৈরির উপকরণ যাতে সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছাতে না পারে, সে ব্যাপারে একটি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ওই ঘোষণায় তুলে ধরা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে পরমাণু চুল্লি, গবেষণাকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনায় থাকা শত শত টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়ামের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। সেগুলো যাতে চুরি হয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছাতে না পারে, সে ব্যাপারেও বিশ্বনেতাদের সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।


প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এ পরমাণু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অরক্ষিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পরমাণুসামগ্রীর নিরাপত্তা আগামী চার বছরের মধ্যে নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনের একপর্যায়ে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গেও বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। দুই নেতার মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়।


বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে কর্মকর্তা জেফ বেডার জানান, দুই নেতার মধ্যে ৯০ মিনিটের আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল ইরান। ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করার জন্য প্রস্তুত চীন। ইরান প্রশ্নে আন্তর্জাতিকভাবে একটা ঐক্য গড়ে উঠছে। এটা তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন জেফ বেডার। ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখতে প্রেসিডেন্ট ওবামা দেশটির ওপর চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করছেন।
ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় চীন এত দিন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোর বিরোধিতা করে আসছিল। এ সম্মেলনে সেই চীনও শেষ পর্যন্ত ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সায় দেয়।


বেডার আরও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ শুরু করলাম। সামনের দিনগুলোতেও একসঙ্গে কাজ করব। এই গ্রীষ্মের আগে ওবামা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে চান।’


এদিকে সম্মেলনে ইউক্রেন তার পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের জন্য রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ফের ব্যক্ত করেছে। এ ছাড়া দেশটিতে রক্ষিত পরমাণু জ্বালানি ২০১২ সালের মধ্যে ধ্বংস এবং পরমাণু-সরঞ্জাম অন্য দেশে বিক্রি না করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ইউক্রেন অনেক পরমাণু বোমার মালিক বনে যায়।

পাতাটি ৩১৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন