logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo খরায় পুড়ছে রাজশাহী : পানির জন্য হাহাকার
পদ্মা পাড়ের শহর রাজশাহী ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শুকিয়ে গেছে এখানকার খাল-বিল ও পুকুর। যার ফলে রাজশাহী ও এর আশপাশের জেলায় দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড খরা। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ অঞ্চলে। আর এর সাথে যোগ হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। এতে গভীর নলকূপের আওতায় আবাদকৃত বোরোড়্গেতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। পানির অভাবে বোরো ধানড়্গেত ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পানির জন্য হাহাকার করছে। ড়্গুব্ধ হয়ে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা প্রতিদিন চড়াও হচ্ছেন বিদ্যুৎ অফিসে।

বিদ্যুতের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজরীপাড়া ইউনিয়নের কৃষকরা রাজশাহী পলস্নী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। বিদ্যুৎ প্রদানের আশ্বাস দেয়া হলে তারা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। এর আগেরদিন বুধবার নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার কৃষকরা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও বিড়্গোভ মিছিল করে। গত সপ্তাহে রাজশাহী জেলার মোহনপুরের শত শত কৃষক পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস ঘেরাও করে ভাংচুর করে এবং অফিসের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনে। লোডশেডিংয়ের কারণে রাজশাহীর বাগমারা ও দুর্গাপুর এলাকায়ও বোরোড়্গেতে সেচ সংকট বিরাজ করছে। কৃষকরা বলছে, এখন ধানের থোড় হওয়ার সময়, এখন ড়্গেতে পানির অভাব হলেই ধানের চরম ড়্গতি হবে। ধানের ফলন আশংকাজনকহারে কমে যাবে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী পলস্নী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার গোলাম সারোয়ার বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পিক আওয়ারে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও মিলছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। আবার অফ পিক আওয়ারে ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২২ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (বিএমডিএ) পরিচালিত রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ১২ হাজার গভীর নলকূপ। ক্রমান্বয়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনেই কোথাও না কোথাও ট্রান্সমিটার পুড়ছে। একদিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমসত্মাপুরে ৩১টি গভীর নলকূপের ট্রান্সমিটার পুড়ে যায়। বিএমডিএ’র ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে চরম সেচ সংকটের মুখ পড়বে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের আবাদ।

রাজশাহী জেলায় পিক আওয়ারে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও ৩০ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আর পুরো জেলায় ৮৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। তবে রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. আরজাদ হোসেন জানান, বর্তমানে আমরা বেশি সরবরাহ পাচ্ছি। এতে খুব শিগগিরই সেচ সংকট কেটে যাবে।

এদিকে তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে খাল-বিল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সঙ্কট। গ্রামের মহিলারা দূর-দূরানেত্মর গভীর নলকূপ থেকে পানি এনে খাবার পানির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন। আবার একই কারণে রাজশাহী শহরে রোগ-বালাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পর্যনত্ম দেড় হাজারের বেশী মানুষ জন্ডিসে আক্রানত্ম হয়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, দীর্ঘ ৬ মাস বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের আবহাওয়া ক্রমান্বয়ে রম্নড়্গ হয়ে উঠছে। গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের ৪ অক্টোবর এখানে সর্বশেষ বৃষ্টিপাত হয় ৪৫ মি.মি.। এ বছর রাজশাহী অঞ্চলে গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে এবং এটি আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।

পাতাটি ২৫৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন