logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo মহানগর আ’লীগে দ্বন্দ্ব চরমে : সভাপতি সেক্রেটারি ছাড়াই চলছে, কাউন্সিল হয় না ৫ বছর
পাঁচ বছর ধরে কাউন্সিল হয় না রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের। দীর্ঘদিন থেকে সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়াই চলছে দলের কার্যক্রম। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। মহাজোট সরকার গঠনের পর থেকেই এ দ্বন্দ্ব দেখা দিলেও বর্তমানে তা চরম আকার ধারণ করেছে।


এদিকে পুরনো কমিটি ভেঙে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে রাজশাহী মহানগর কমিটি গঠনের দাবি করে আসছেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা হচ্ছে না। এদিকে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শফিকুর রহমান বাদশা ও কোষাধ্যক্ষ শামসুজ্জামান আওয়ালের নেতৃত্বে সুবিধাবাদী নেতারা টেন্ডারসহ নানা কাজে তদবিরেই বেশি ব্যস্ত থাকছেন। এতে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন দলের সুবিধাভোগীরা, আর বঞ্চিত হচ্ছেন দলের ত্যাগী নেতারা। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মেয়র নির্বাচনের পর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আর সভাপতি মাসুদুল হক ডুলু মৃত্যুবরণ করেন। এখন সভাপতি ছাড়াই কেবল ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিয়ে চলছে ক্ষমতাসীন দলের রাজশাহী মহানগর শাখার কার্যক্রম। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।


রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৫ সালের প্রথমদিকে। ওই কমিটিতে সভাপতি পদে মাসুদুল হক ডুলু আর সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন বর্তমান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর মহানগর আওয়ামী লীগ পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠন করে। কিন্তু মেয়র নির্বাচনের সময় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় মাসুদুল ডুলুকে বহিষ্কার করা হয়। মাসুদুল হক ডুলু মারা গেলে সেই পদ আর পূরণ হয়নি। এর আগে মেয়র নির্বাচনের সময় দলের সাধারণ সম্পাদক পদ ছেড়ে দেন বর্তমান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সেই পদে যুগ্ম সম্পাদক-১ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, দলের কোনো সভা করে তাকে এ পদ দেয়া হয়নি। আবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় মেয়র লিটন মহানগর আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেও প্রচার করছেন এতে দলের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে জানুয়ারির শেষের দিকে আওয়ামী লীগ গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চকে সাংগঠনিক মাস হিসেবে ঘোষণা দেয়। এ দুই মাসে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হবে এবং তার পরে কাউন্সিল সম্পন্ন হবে। কিন্তু তা হয়নি। নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্র থেকে পাঠানো বই দেড় মাস ধরে পড়ে আছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে বিতরণ হয়নি। এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, কাউন্সিলের তারিখ দেয়ার এখতিয়ার কেবল কেন্দ্রের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংস ঘটনায় ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে জামায়াত-শিবিরকে মোকাবিলা নিয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যস্ত থাকায় এ দুই মাসে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বই বিতরণ শুরু হবে।


দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মেয়রের প্রিয়ভাজন বাদশা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হলেও কার্যত সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় নগর ভবন থেকেই। তবে কোনো সভা হলে সেখানে মেয়র লিটনকেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে দলীয় শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। অকার্যকর হয়ে পড়েছে সংগঠন।


মহানগর নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের নামের জোরেই লিটন বরাবরই মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে আসছেন। এ নিয়ে দলে ক্ষোভ থাকলেও গত ২০০৮ সালের আগস্টে মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়।


বিগত সংসদ নির্বাচনেও মেয়র লিটন দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে অজ্ঞাত কারণে নিজ বলয়ের তিন শিল্পপতি বর্তমান এমপি আবদুদ ওয়াদুদ দারা, শাহরিয়ার আলম ও ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে মনোনয়ন এনে দেন। দলীয় সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এখন মেয়র ও এমপিদের চাটুকাররাই সুবিধা পাচ্ছেন রাজশাহীতে। বঞ্চিত হচ্ছেন দলের ত্যাগী নেতারা। এতে দলের নেতাকর্মীরা মেয়রের ওপর ক্ষুব্ধ।


এরপরও নির্বাচনের পর সবাই আশা করেছিলেন এবার মেয়র লিটন রাজশাহীর ৬ এমপিকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করবেন। কিন্তু গত দেড় বছরে তার কোনো আলামত দেখা যায়নি বরং তাকে উন্নয়নের বাধা হিসেবেই দেখছেন সবাই। মেয়র লিটনের কারণেই রাজশাহীর এমপিরা মন্ত্রিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এমনটিও মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, নগর ভবনে প্রতি সপ্তাহে তিনদিন ২-৩ ঘণ্টা করে মেয়র হিসেবে সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তিনি তা করছেন না। দলের একশ্রেণীর সুবিধাভোগীদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকছেন। দলবাজি, টেন্ডারবাজি ও লুটপাট করতে দেবেন না এমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও তিনি নিজেই এখন রাজশাহীর সব টেন্ডার নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু সুবিধাবাদী নেতা এখন টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত। সাধারণ নেতারা যেমন এতে ক্ষুব্ধ, তেমনি সাধারণ ঠিকাদাররাও বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, দলের ভেতরে সুবিধাবাদী বলে কোনো গ্রুপ নেই। সবাই দলের জন্য কাজ করেন।

পাতাটি ৩৪৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন