logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo প্রাচীন স্থাপনার টানে পদ্মার তীরে ভিড়
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার বুকে ডুবে থাকা প্রাচীন স্থাপনার টানে গতকাল শনিবার নদীর তীরে হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দর্শনার্থীরা নৌকা নিয়ে গিয়ে পানির নিচে থাকা ওই স্থাপনার ওপর নেমে তাঁদের কৌতূহল মিটিয়েছেন। প্রাচীন ভবনের ছাদে তাঁদের এই ঘন ঘন যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এতে ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওই স্থান পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জানিয়েছেন।
গতকাল সারা দিন বাঘার চকরাজাপুর গ্রামে রাজশাহী ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে লোকজন এসে ভিড় করেন। স্থানীয় গড়গড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর আযম বলেন, মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নৌকা নিয়ে গিয়ে তাঁরা ডুবে থাকা প্রাচীন ভবনের ওপর উঠছেন, হাঁটাহাঁটি করছেন, ইট খুলে নিচ্ছেন। নিষেধ করলেও কেউ শুনছেন না। অনেকে সাঁতরে গিয়ে ওই ভবনের ওপর উঠছেন। এতে ভবনের ছাদ ধসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেলী দেওয়ান গতকাল এসেছিলেন এই স্থাপনার অবস্থান দেখতে। তিনি বলেন, এই স্থাপনার প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অনেক বেশি। এটি শিগগিরই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে নেওয়া উচিত। এ ছাড়া এর ভেতর অনেক মূল্যবান প্রত্নসামগ্রী থাকতে পারে। এগুলো উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা উচিত।
বাঘার ইউএনও দেওয়ান মো. শাহরিয়ার ফিরোজ বলেন, তিনি ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। সেখান থেকে ফিরে বিষয়টি তিনি টেলিফোনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানান। তিনি বলেন, স্থাপনাটির দেখভালে চৌকিদার ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরে বিডিআর জওয়ানেরাও আসেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাঘার ইউএনও আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। আমরা এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেব। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা একজন বিশেষজ্ঞ পাঠাব। তিনি গিয়ে দেখবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যা বলছি, তা অভিজ্ঞতা, ধারণা ও আবেগ থেকে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি তাঁদের দিক থেকে বিবেচনা করবেন। তারপর আমরা বাইরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব।’
পাঠান জায়গিরদার লস্কর খাঁর ১৯তম বংশধর দাবি করে রাজশাহী বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খান বলেন, একবার প্রবল বন্যায় রাজবাড়ীর অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এটি সেই স্থাপনা হতে পারে।
বাঘা উপজেলার চকরাজাপুরে পদ্মার বুকে কয়েক দিন আগে প্রাচীন আমলের একটি স্থাপনার অংশ জেগে ওঠে। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে মানুষের মাথার খুলিসহ অনেক হাড়গোড় ও তৈজসপত্র উদ্ধার করেছে।

পাতাটি ৩০৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন