logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo অবহেলায় ফুলবাড়িতে মিত্রবাহিনীর শহীদদের স্মৃতিসত্মম্ভ
দনাজপুরের ফুলবাড়িতে অবহেলায় পড়ে আছে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর শহীদ ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনা সদস্যদের স্মৃতিসত্মম্ভটি। প্রতি বছর বিজয়ের মাস আসে আর যায়, কিন্তু কেউই স্মরণ করে না স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের কথা। তবে স্বাধীনতার পর ৩/৪ বছর এই স্মৃতিসত্মম্ভটি বিভিন্ন সত্মরের মানুষ শ্রদ্ধা জানালেও এখন আর কেউই শ্রদ্ধা জানাতে যায় না সেখানে। ফলে অবহেলা, অযত্ন আর অরড়্গিত অবস্থায় পড়ে থাকছে এই স্মৃতিসত্মম্ভটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পার্শ্ববর্তী ছোট যমুনা নদীর পানির উচ্চতা মাপার জন্য স্কেল হিসেবে ব্যবহার করছে।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে ফুলবাড়িতে অবস্থানরত পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর ওপর চতুর্মুখী আক্রমণ চালালে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল সামসরা প্রাণভয়ে ছোট যমুনা নদীর লোহার ব্রিজের পূর্বপ্রানত্ম ডিনামাইটের সাহায্যে উড়িয়ে দিয়ে সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়। ঐদিনই ফুলবাড়িকে পাকিসত্মানি হানাদার মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তিযোদ্ধারা। ৪ ডিসেম্বর থেকেই মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী ফুলবাড়িকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টহল দিতে থাকে। এমনই এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর সকালে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট আর. সি ভয়েলের নেতৃত্বে একদল ভারতীয় সেনা জীপগাড়িতে করে স্থানীয় সরকারি কলেজের পূর্ব ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে টহল দেয়ার সময় হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরনে জীপগাড়িটি উড়ে যায়। ফলে জীপে অবস্থানরত সকল সেনা সদস্যই শহীদ হন। একই দিনে উপজেলার পৌর এলাকার চকচকা গ্রামেও মাইন বিস্ফোরণে ৪/৫জন ভারতীয় সেনা সদস্য শহীদ হন। পরে শহীদ ভারতীয় সেনা সদস্যদের ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে চিতাদাহের মাধ্যমে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় এবং মাইন বিস্ফোরণ স্থলে নির্মাণ করা হয় শহীদ স্মৃতিসত্মম্ভ।

পাতাটি ৩৩২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন