logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo মেলেনি আর্থিক সাহায্য

দৈনিক আজাদ পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি ও রাজশাহী সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সাঈদের অপরাধ- স্বাধীকার আন্দোলনে রাজশাহীর মানুষকে উজ্জীবিত করতে তিনি এখানকার ভুবনমোহন পার্কে নাটক মঞ্চায়ন করতেন, একই সাথে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় রাজশাহী আন্দোলন সংগ্রামের রিপোর্ট ফলাও করে ছাপা হতো। তিনি ছিলেন রাজশাহীর সোচ্চার কণ্ঠস্বর, এক লড়াকু কলম সৈনিক। তার দৈনিক আজাদের অফিস ছিল নগরীর গৌরহাঙ্গা গ্রেটার রোডে। যেখানে ছিল মুক্তিকামী মানুষের আখড়া। এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর প্রবীণ সাংবাদিক বাংলাদেশ অবজাভার’র রাজশাহী প্রতিনিধি ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মুসত্মাফিজুর রহমান খান বলেন, সাঈদ ভাই ২৫ মার্চ কালো রাত্রির আগের দিনও ভুবনমোহন পার্কে দুঃসাহসিকতার সাথে নাটক মঞ্চায়ন করে স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করেছেন। এতে ড়্গুব্ধ হয়েই পাকসেনারা তাকে হত্যা করে।

নির্যাতন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও স্বাধীনতা আন্দোলনকে সত্মব্ধ করতে পারেনি পাকসেনারা। দেশ ঠিকই স্বাধীন হয়েছে। জাতি হয়েছে শৃংখলমুক্ত, ঘটেছে অনেকের ভাগ্যের পরিবর্তন। কিন্তু আবু সাঈদের বিদায়ের পর তার পরিবার হয়ে গেছে বিধসত্ম- লন্ডভন্ড। অর্ধহার-অনাহারে দিন কাটে তার সনত্মানদের। বসতবাড়ি না থাকায় শহীদ আবু সাঈদের সহধর্মিনী বৃদ্ধা শামসুন্নাহার থাকেন জামাই বাড়িতে। ছোট ছেলে সামিউল আজাদ শহীদ বাবার সার্টিফিকেট নিয়ে দীর্ঘদিন চাকরির জন্য ঘুরে চাকরি পায়নি। মুক্তিযোদ্ধার কোটাও তার কপালে জোটেনি। আরেক সনত্মান এস এম আলমগীর বাবলু দারিদ্র্যের কষাঘাতে দীর্ঘদিন ধরে রিক্সা চালিয়ে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বয়স হয়ে যাওয়ায় রিশার আয় দিয়ে বাবলুর সংসার চলে না। তাই দুই শিশু পুত্র সাব্বির ও সাকিরকে দিয়েছেন কাজ করতে মোটর গ্যারেজে। শহীদ পিতার প্রতি অবহেলা আর বঞ্চনার কারণে তিনি পিতার পরিচয় দেন না কোথাও। পঞ্চাশোর্ধ বাবলু যাত্রীর অপেড়্গায় সারাড়্গণ দাঁড়িয়ে থাকেন রাজশাহী টার্মিনাল কিংবা পস্নাটফরমে।

শহীদ সনত্মান বাবলু আড়্গেপ করে বললেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গত ৩৮ বছরেও আমাদের সাহায্য দেয়া তো দুরের কথা কোন খোঁজ-খবরও নেয়নি। প্রতিবছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমার বাবার আত্মদানের কথা স্বীকার করে দেয়া হয় বক্তৃতা, করা হয় প্রশংসা। শেষে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়াও করা হয়। আগামী সোমবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আবার তা করা হবে। ব্যস, ওই পর্যনত্মই। কিন্তু কোন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক-মেয়র কোন দিনই আমাদের খোঁজ-খবর নেয়নি।

শহীদ সাংবাদিকের রিকশাচালক পুত্র বাবলুর ঘরে রয়েছে বিবাহ যোগ্য কন্যা। কিন্তু অর্থের অভাবে দিতে পারছেন না বিয়ে। বাবলু বললেন, দু’মাস আগে মেয়র সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন, এ বাবদ আমাদের কোন ফাণ্ড নেই, জেলা পরিষদে যান। বার বার ঘুরানোর পরেও জেলা পরিষদও কোন অর্থ দেয়নি বাবলুকে। রাজশাহী মুক্তিযোদ্ধা সংসদে গিয়েও খালি হাতে ফিরে এসেছেন। আবু সাঈদের সহধর্মিনী শামসুন্নাহার বললেন, ১৯৭১ সালের ২৮ জুন বিকেলে ষষ্ঠিতলার বাসা পাকসেনারা তাকে নিয়ে যায়। তিনি আর ফিরে আসেননি। তরতাজা মানুষটি হারিয়ে গেলেন চিরদিনের জন্য। পরে বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশনের দড়্গিণে একটি গর্তে তাকে পাকসেনারা মাটি চাপা দেয়।

পাতাটি ৩৪৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন