logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থানার ওসি’র বিরুদ্ধে ৮শ ব্যক্তির গণআবেদন
মামলার নামে মারপিট, শ্লীলতাহানী, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি, পক্ষপাতিত্ব সহ নানামূখী অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে উপজেলার ৭৫৬ ব্যক্তি স্বাক্ষরিত এক গণআবেদন সম্প্রতি পুলিশ সুপারের কাছে পেশ করা হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ সুপার অজ্ঞাতকারণে রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছেন। এদিকে ওসি নিজেকে বাচাতে তার মদদপুষ্ট শরিফা নামের এক মেয়েকে দিয়ে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, ওসি আশরাফুল ইসলাম বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা রকম অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইত্যবসরে তিনি বড় সুলতানপুর গ্রামের উচ্ছৃংখল গৃহবধূ শরিফা খাতুন এর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানী সহ শরিফার স্বামীকে নানাভাবে নাজেহাল করতে থাকেন। শরিফা নিজের স্বামী সংসার ফেলে রেখে নিয়মিত ওসির বাসায় যাতায়াতের সুবাদে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং স্বামী কর্তৃক দেয়া বাড়ীর সম্পত্তি বিক্রি করে বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ করে অন্যত্র পৃথক বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে স্বামী ও সম্পর্কীয় এক দেবরের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ওসি’র মধ্যস্ততায় ২০ হাজার টাকা আদায় করে। এসব মানহানীকর কর্মকান্ডে স্বামী ছাত্তারের সঙ্গে শরিফার দূরত্ব বেড়ে যায়। তদুপরি ওসির পরামর্শে পুর বাজারে গিয়ে স্বামীকে আটক করে তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছালে তাদেরকে স্থানীয় ১নং নাফানগর ইউ,পি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় শালিস চলাকালে শরিফা মোবাইল যোগে ওসিকে ঘটনাস্থলে আসতে বললে কিছুক্ষনের মধ্যে থানা থেকে ২ জন দারোগা ঘটনাস্থলে পৌছে। এর কিছুক্ষণ পরে ওসিও সেখানে পৌছে কোন কিছু না শুনে শরিফার পক্ষ নিয়ে ছাত্তারের উপর চড়াও হয়ে মারপিট শুরু করে। ওসি’র এহেন আচরনে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে ওসি সকলকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। এ সময় ছাত্তার ও তার কন্যা আকলিমা আখিকে মারধর সহ শ্লীললতা হানী করে। আখি পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। স্থানীয় ইউ,পি চেয়ারম্যান বিষয়টি মীমাংশার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ওসি আশরাফুল ইসলাম ঐ দিনই শরিফাকে বাদী করে স্বামী সাত্তার ও কন্যা আকলিমার বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (খ)/ ৩০ ধারায় একটি মামলা করান। ওসির পক্ষপাত মূলক আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার ৭৫৬ ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি গণ আবেদন দিনাজপুরে পুলিশ সুপারের কাছে গত ২৪ নভেম্বর দাখিল করা হয়েছে। এলাকাবাসী শরিফার সঙ্গে ওসি আশরাফুলের অদৃশ্য সম্পর্ক এবং নিরীহ ব্যক্তিদের মারপিট, শ্লীললতাহানী করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ওসি আশরাফুলের মতামত চাওয়া হলে তিনি যাবতীয় কার্যক্রম আইন সম্মত হয়েছে বলে জানান।

পাতাটি ২৭৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন