logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও এলজিইডি কার্যালয় তছনছ
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাজশাহী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ তিনটি কার্যালয়ের তালা ভেঙে কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে কার্যালয় তিনটিতে এ ঘটনা ঘটে। কার্যালয়গুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্র খোয়া গেছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী চার দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে বলে জানা গেছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং এলজিইডির দপ্তর দুটি মহানগরের শ্রীরামপুর এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত। এ দুটির মাঝে একটি সীমানাপ্রাচীর রয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার রাতে এলজিইডিতে খলিলুর রহমান, বাবলু ও রবিউল ইসলাম নামে তিনজন নৈশপ্রহরী দায়িত্বে ছিলেন। খলিলুর রহমান জানান, সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে তিনি কার্যালয় ভবন এলাকায় এবং অপর দুজনের একজন গ্যারেজে ও একজন আবাসিক ভবন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত তিনটার দিকে তিনি প্রস্রাব করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন। দুর্বৃত্তদের দলে সাত-আটজন ছিল।
খলিলুর রহমানের ভাষ্যমতে, দুর্বৃত্তরা তাঁর গলায় ছুরি ধরে বলে, চিত্কার করলে খুন করে ফেলব। তারা কার্যালয় ভবনের মসজিদকক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে তাঁকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বাঁধে। এরপর মাফলার দিয়ে তাঁর মুখ বেঁধে রেখে যায়।
প্রহরী বাবলু জানান, গতকাল শনিবার সকাল সাতটা ৫০ মিনিটে কার্যালয়ের গাড়ির চালক মোখলেছুর রহমান সীমানাপ্রাচীরের প্রধান ফটক বন্ধ পেয়ে তাঁকে মোবাইলে ফোন করেন। তিনি আবাসিক এলাকা থেকে এসে কার্যালয় ভবনের নিচতলায় দেখেন, মসজিদের কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রহরী খলিলুর রহমান গোঙাচ্ছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসায় গিয়ে ঘটনাটি জানান।
এলজিইডির রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে আজাদ জানান, তিনি খবর পেয়েই রাজপাড়া থানার পুলিশকে জানান। পুলিশের সঙ্গেই কার্যালয়ে এসে কাগজপত্র তছনছের বিষয়টি দেখতে পান। পুলিশ আসার পর সকাল আটটার দিকে খলিলুর রহমানের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। তিন প্রহরীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ তাঁদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বলেছে।
এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের সঙ্গে কর্মকর্তারা কার্যালয় ভবনের দোতলায় ওঠে দেখেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পাঁচটি কক্ষের মধ্যে দুটির দরজার তালা ভাঙা। নির্বাহী প্রকৌশলীর ১৬টি কক্ষের দরজার মধ্যে ১৫টিরই তালা ভাঙা। আর নির্বাহী প্রকৌশলীর (প্রশিক্ষণ) তিনটি কক্ষের সব দরজার তালা ভাঙা। দুর্বৃত্তরা তিনটি কার্যালয়ের ২০টি কক্ষের ১৫টি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি ফাইল ক্যাবিনেট ও চারটি টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করে।
এদিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভবনের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। তারা ভবনটির ১২টি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ১৭টি স্টিলের আলমারির কাগজপত্র তছনছ করে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (সিআইডি) রাজশাহী মহানগর শাখার এসপি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, পরিদর্শক ফজলের রহিম ও লুত্ফর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন। তাঁরা তদন্তের জন্য দুর্বৃত্তদের হাত ও পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেছেন। এ ব্যাপারে পরিদর্শক ফজলের রহিম প্রথম আলোকে বলেন, দুটি দপ্তরে একই পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। তা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাশাপাশি দুটি দপ্তরে একটি দলই এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

পাতাটি ৩১৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন