logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির পাঁচ দিনের রিমান্ডে
জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগর শাখার আমির আতাউর রহমানকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নৃশংস হামলায় গণিত বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেন খুন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মতিহার থানায় করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও ২৮ জনকে আটক করা হয়। ফারুক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোখলেছুর রহমানকে (২৫) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে গতকাল গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেসুর রহমানের বরাত দিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গ্রেপ্তারের পর শিবিরের ক্যাডার মোখলেছকে রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় পাঠানো হয়েছে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। ঘটনার পর তিনি তাড়াশের কুন্দুলপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে চলে যান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডবের ঘটনায় শিবিরের বিরুদ্ধে গতকাল আরও দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। মতিহার থানায় সকালে মামলা দুটি করেন শিবিরের হামলায় আহত ছাত্রলীগের কর্মী রুহুল আমিন ও কাওসার আলম। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ওই থানায় শিবিরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হলো।
গতকাল রাজশাহী মহানগর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, হত্যাসহ দুটি পৃথক মামলায় আতাউর রহমানকে গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে নগরের লোকনাথ স্কুলের পাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। গ্রেপ্তারের পর থানায় আলোকচিত্র সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি তুলতে গেলে তিনি বলেন, ‘বড় খুনিকে পেয়েছেন, যত খুশি ছবি তোলেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য উপাচার্যকে দায়ী করে আতাউর রহমান বলেন, সেদিন সন্ধ্যার দিকে তিনি যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। তিনি দাবি করেন, নোমানি হত্যার পর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে অভিযানের অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ২৮ জনকে আটক করা হয়।
মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বসির উদ্দিন জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে গতকাল রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। হাকিম আমিরুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামিরা হলেন নাটোরের সিংড়ার রাসেল, বড়াইগ্রামের এনামুল হক, রাজশাহীর পুঠিয়ার রফিক, যশোরের মনিরামপুরের আরশেদ বিল্লাল ওরফে রায়হান, মতিহার থানার কাপাসিয়া এলাকার জিল্লুর রহমান ও বগুড়ার আদমদীঘির মোসাদ্দেক। আটক অন্যদের বোয়ালিয়া থানায় রাখা হয়েছে।
আরও দুটি মামলা: মতিহার থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল ছাত্রলীগের কর্মী কাওসার আলমের করা মামলায় শিবিরের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। রুহুল আমিনের করা মামলায় শিবিরের ৩১ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, জখম, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা এলাকার কেডি ক্লাবের কাছে একটি নর্দমায় তিনটি বড় রামদা ও একটি লোহার পাইপ দেখে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোমবার রাতে হামলার সময় এসব অস্ত্র ব্যবহূত হতে পারে।
গতকালও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল প্রায় ফাঁকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোও ছিল প্রায় শিক্ষার্থীশূন্য। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তাঁরা এ দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে যেকোনো মূল্যে ছাত্রশিবিরকে প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।
দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুককে হত্যা করে।
ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আওয়াল কবিরের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন আওলাদ হোসেন, হাসানুজ্জামান, জসীম উদ্দীন, ইকবাল মাহমুদ, আরিফুজ্জামান, নাজমুল হোসেন, জাকির হোসেন প্রমুখ।

সুত্রঃ প্রথম আলো

পাতাটি ৩৩৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন