logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo সড়কের অর্ধেকের বেশি দখল করে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা

মহাসড়কের মতো চওড়া রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর-কাশিয়াডাঙ্গা সিটি বাইপাস সড়কটি। অথচ বর্তমানে এটি দেখলে মনে হয় কোনো গলিপথ। কেননা দুই পাশে ইট-খোয়া, পাথর, বালু আর মাটি রেখে সড়কটির অর্ধেকের বেশি ঢেকে গেছে। বছরখানেক ধরেই এভাবে রাস্তার ওপর রেখে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা করছে কিছু ব্যবসায়ী। দখলের তালিকায় রয়েছে ঠিকাদাররাও।

বহরমপুর ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা আজিজুর রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রাস্তা দখল করে মাটি, বালু, পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। সিটি করপোরেশনও যেন কিছু দেখছে না, আবার পুলিশও কিছু দেখছে না। ভোগান্তিতে পড়ে পথচারী আর এলাকাবাসীর অবস্থা একেবারে চিঁড়াচ্যাপটা।

নগরীর ভেতরে যানবাহনের চাপ কমাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ২০০১ সালে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে লক্ষ্মীপুর-কাশিয়াডাঙ্গা সিটি বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করে। ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের এ সড়কটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কাশিয়াডাঙ্গা মোড় থেকে বিলসিমলা রেলগেট পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার পথে ২৫টি স্থানে বালু, ইট, মাটি ও পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সড়কের ওপরেই চলছে ইট ও পাথর ভাঙার কাজ। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে মিস্ত্রিরা রড দুমড়ানো-মোচড়ানো বা সোজা করার কাজ চালাচ্ছে। দেখলে মনে হবে রডের কারখানা। সড়কের কয়েক শ গজ ভেতরে দক্ষিণ পাশে চলছে সিটি করপোরেশনের ড্রেন নির্মাণের কাজ। এ কাজের ঠিকাদার শফি কোর্ট কলেজ আর চার খুটার মোড় এলাকায় সড়কের অর্ধেক দখল করে স্তূপ করে রেখেছেন পাথর ও রড।

এলাকাবাসী জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে সোনামসজিদ থেকে আসা একটি মালবোঝাই ট্রাক উঠে পড়ে পাথরের স্তূপের ওপর। প্রায় প্রতিরাতেই ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। পথচারীদের হোঁচট খাওয়া তো মামুলি ব্যাপার। চারখুটার মোড় এলাকায় সড়ক দখলের ফলে একমুখী যান চলছে এক মাস ধরে। কোর্ট স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, এ সড়কের সঙ্গে চারটি সংযোগ সড়ক নগরীর লক্ষ্মীপুর, ডিঙ্গাডোবা, কোর্ট ও হড়গ্রাম এলাকায় যুক্ত রয়েছে। এসব পয়েন্টও দখলবাজদের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব পয়েন্টে এলোমেলোভাবে ভ্যান ও রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই।

সড়ক দখল সম্পর্কে ঠিকাদার শফি বলেন, 'ড্রেন নির্মাণে আমাদের চুক্তি আছে এক বছরের। আমরা এসব নির্মাণসামগ্রী শিগগিরই রাস্তার ওপর থেকে সরিয়ে নেব।' বালু ব্যবসায়ীদের কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির দখল পরিস্থিতি নিয়ে নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফুল হক। তিনি বলেন, 'আমরা এর আগে কয়েকবার সড়কের উভয় পাশের ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছি।' বর্তমানে সড়কের অর্ধেক দখল হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা হয়ে থাকলে শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।

রাজপাড়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, 'আমাদেরও করণীয় আছে আবার জনগণেরও করণীয় আছে। তিনি প্রশ্ন করেন, 'লোকজনের অসুবিধা হলে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিচ্ছে না কেন?' অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পাতাটি ২৭৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন