logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আওয়ামী লীগ সব অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে জড়িত

রাজশাহীতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বর্তমান সরকারের দমন, নিপীড়ন ও নির্যাতন এবং অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডই সাংবাদিকসহ পেশাজীবীদের রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিককে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। দেশব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতন, নিপীড়ন ও বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে নগরীর ভুবন মোহন পার্কে আয়োজিত এক বিরাট সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।


আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে জড়িত। ফলে তাদের হাতে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। তারা সব ক্ষেত্রে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করে প্রভুদের মন তুষ্ট করতে সচেষ্ট রয়েছে। প্রয়োজনে তারা দেশ বিক্রি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে প্রস্তুত।


রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এসএমএ কাদেরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ, বিএমএ’র সাবেক মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী ও রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এম বোখারী আজাদ জনি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইবির সাবেক উপাচার্য ও দৈনিক আমার দেশ পাঠকমেলার উপদেষ্টা প্রফেসর মু, রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরইউজের নবনির্বাচিত সভাপতি ও দৈনিক সানশাইন পত্রিকার সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বকুল।


মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণকারী দল। ফলে তারা আবারও সংবাদপত্র এবং মিডিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিন্তু তারা জানে না মানুষের ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা কোনো অত্যাচার-নির্যাতনের মাধ্যমে হরণ করা যায় না।


তিনি বলেন, তত্কালীন মুজিব সরকার শুধু দুর্ভিক্ষ উপহার দেয়নি, তারা মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র হরণের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করেছিল। আজ তারা আবারও দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর মইনকে ঘোড়া উপহারের মাধ্যমে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে ইন্দিরা পদকের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরে গিয়ে ভারতকে কি কি দেবেন এর একটা মুচলেকা দিয়ে এসেছেন। এ ধরনের চুক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গে হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে হতে পারে না।


রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজ সময় এসেছে ফ্যাসিস্ট সরকারকে মোকাবিলার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার। বর্তমান সরকার সত্যকে ভয় পায় বলেই সারাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু করেছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে সরকার গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে ’৭৫-এর ন্যায় একদলীয় বাকশাল কায়েমের চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় এসে তারা সর্বত্রই দলীয়করণ করেছে। দলীয়করণ ও দেশ বিকিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে পুরস্কৃত করা হলে বর্তমান তাঁবেদার সরকার দেশের এ যাবত্কালের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হবে। সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধ না হলে সারাদেশে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে তা মোকাবিলা করবে। তিনি আরও বলেন, আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কিছু হলে, দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।


শওকত মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিল্লির কাছে দেশের বিরুদ্ধে দাসখত ও গোলামি চুক্তি করে এসে এই লজ্জা ঢাকার জন্য বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অপপ্রচারে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। তিনি বলেন, এই সরকারের গত এক বছরে ২৩০ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। এভাবে সাংবাদিক নির্যাতনের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডকে জায়েজ করা যাবে না। সময় হলেই দেশবাসী এর সমুচিত জবাব দেবে।


তিনি রাবি প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেসক্লাব বন্ধের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় সরকার গণতন্ত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এমন অবস্থা একটা সভ্য সমাজে চলতে পারে না। এর একটা পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ইন্দিরা গান্ধীর মতো দেশের বাকস্বাধীনতা হরণে লিপ্ত হয়েছে। এটা হতে দেয়া যায় না। তাই দেশবাসী আজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। রাজশাহী থেকে সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তিনি দেশবাসীকে এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার আহ্বান জানান। সমাবেশে সাংবাদিক ছাড়াও বিপুলসংখ্যক বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

পাতাটি ৩২০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন