logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ছাত্রলীগ নেতা অসুস্থ, তাই অন্যদের অ্যাম্বুলেন্স নেই
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক ছাত্রী মহুয়া সাহা উর্মি। গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কক্ষের অন্য সদস্যরা জরুরিভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ফোন করেন। চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, 'এখনই সম্ভব নয়'। পরে কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে উর্মিকে নিয়ে আসেন চিকিৎসা কেন্দ্রে। কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে বলেন, 'এখানে চিকিৎসা সম্ভব নয়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।' কিন্তু তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স চিকিৎসা কেন্দ্রে নেই। দুপুরে কেন্দ্রের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই নিয়ে গেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাত ১২টার আগে ফেরত পাওয়া যাবে না। পরে রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে তাঁরা বাসে ওঠেন।
উর্মির সহপাঠী ও তাঁর কক্ষের বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হলেও নেতাদের ভয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত সোমবার ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আওয়াল কবির জয়ের হাতে অস্ত্রোপচার হয়। ওই দিন থেকেই সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা তাঁকে দেখতে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে অবস্থান করেন। এ সময় আবাসিক হল, ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসিক ভবন থেকে অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে ২১টি ফোন আসে। কিন্তু কেউ-ই অ্যাম্বুলেন্স পাননি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তাঁর আট বছরের ছেলেকে নিয়ে আসেন চিকিৎসা কেন্দ্রে। অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নিয়ে যাবেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দেড় ঘণ্টা বসে থাকার পর একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। কিন্তু ছাত্রলীগের দুজন কর্মী সেটি নিয়ে যান। তাদের একজন নিজেকে জোহা হলের ছাত্রলীগ নেতা টিপু হিসেবে পরিচয় দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের এক কর্মচারী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ে একজন আমাকে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স চায়। আমি কারণ জানতে চাইলে সে বলে, 'আমাদের নেতা অসুস্থ, তাকে দেখতে যেতে হবে।' অ্যাম্বুলেন্স নেই বলায় আমাকে অশালীন ভাষায় গালি দিয়ে বলে, ১০ মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স না পেলে চিকিৎসা কেন্দ্রে ভাঙচুর করা হবে।'

পাতাটি ৩০৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন