logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী নগরীর পরিবেশ বিপন্ন : পুকুর ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি
দখল ও ভরাটে দিন দিন কমছে রাজশাহী মহানগরীর পুকুরের সংখ্যা। গত সাত বছরে অন্তত ৪২৮টি পুকুর বা ছোট জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হওয়া জায়গায় গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। এতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও নগর কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই। তবে নগরকর্তা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, আর কোনো পুকুর ভরাট বা দখল হতে দেয়া যাবে না।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সূত্র জানায়, ২০০০ সালের মার্চ পর্যন্ত মহানগরীতে পুকুরের সংখ্যা ছিল ৭২৮টি। ২০০৭ সালে মাত্র সাত বছরে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৩০০টিতে। স্থানীয় মত্স্য অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের জরিপে রাজশাহী মহানগরীতে ৫১৭টি পুকুরের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০০৪ সালের জরিপে সে সংখ্যা কমে হয় ৩৬২টি। তাদের জরিপে ১৯৯০ সালে নগরীর পুকুর ও জলাভূমির পরিমাণ ছিল ১০৫ হেক্টর। ২০০৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ হেক্টরে। বর্তমানে এ জলাভূমির পরিমাণ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হেক্টরে।

এদিকে মহানগরীতে এভাবে পুকুর ভরাটের শেষ পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মাটি, পানি ও বাতাস অত্যাবশ্যকীয়। এসব না হলে আগামীতে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে এ নগরী। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাঈদ আহম্মেদ কবির জানান, ২০০০ সালে প্রণীত আইনে মহানগরী, জেলা এমনকি পৌর এলাকায়ও পুকুর ভরাটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ওই আইনে খেলার মাঠ ও প্রাকৃতিক জলাধারের পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পুকুর ভরাটের প্রধান কারণ নগরায়ন। পুকুর ভরাট করে নির্মিত হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) তরফ থেকে এখন পর্যন্ত পুকুর ভরাট প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা, প্রভাবশালীদের অবৈধ প্রভাব খাটানোর কারণেই নগরীতে এভাবে পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রির রমরমা ব্যবসাও চলছে।

এদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) তার আওতাধীন নগরীর ১৬৫টি পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। আরডিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসব জলাশয় ও পুকুর কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না।

রাজশাহী মহানগরীতে এর আগে সহস্রাধিক পুকুর ছিল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ আর জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব পুকুরের বেশিরভাগই ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পরিবেশের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। পুকুরের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া এবং ভূগর্ভস্থ পানি অর্থাত্ সাপ্লাই পানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সাপ্লাই পানির সরবরাহ যেমন কমে যায়, তেমনি বেশিরভাগ টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। আরডিএ কর্তৃপক্ষ তাদের মহাপরিকল্পনায় ১৬৫টি পুকুরকে সংরক্ষণের তালিকায় রাখলেও ৫টি পুকুর এরই মধ্যে ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অতি সম্প্রতি হেতেম খাঁ এলাকায় ছোট মসজিদের পাশের একটি বিশাল পুকুর প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ী ভরাট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগে কোনো কাজ হয়নি।

আরডিএর টাউন প্ল্যানার আজমেরী আশরাফী জানান, এসব পুকুর বা জলাশয় ভরাটকারীদের কারও কারও বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে এবং কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি জানান, সংরক্ষিত এসব জলাশয় বা পুকুর কোনোভাবেই ভরাট করতে দেয়া হবে না। কেউ যদি গোপনে ভরাট করেও ফেলে, তবে তার বিরুদ্ধে শুধু আইনগত পদক্ষেপই নেয়া হবে না, ভরাটকারীকে আবার নিজ খরচে তা খনন করে দিতে হবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার পরিমাণ বেশি। প্রায় ৩৬৪ দশমিক ১৯ বর্গকিলোমিটার এলাকার উত্তরে নওহাটা পৌরসভা, পূর্বে বানেশ্বর ্বাজার ও পশ্চিমে গোয়ালপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। সূত্র জানায়, এসব পুকুর ও জলাশয় শুধু সংরক্ষণ নয়, পর্যায়ক্রমে তা অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আরডিএ কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, নতুন করে আর কোনো পুকুর ভরাট করতে দেয়া হবে না। ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাতাটি ২৬৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন