logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বের করে বিদ্যালয়ে তালা দিলেন আ.লীগ নেতা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গতকাল শনিবার বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। এর আগে তাঁর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন লোক ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ থেকে বের করে দেন। তাঁরা বিদ্যালয়টির কার্যালয়সহ বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ভাঙচুর করেন। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে ওই নেতা এ ঘটনা ঘটান। আজ রোববার ওই পদে নিয়োগ পরীক্ষার কথা রয়েছে। তবে ওই নেতার দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে অনুদান নেওয়া হলেও তার কোনো হিসাব নেই। অনিয়মের তদন্তের দাবিতে ওই তালা ঝোলানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বনি আমিনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন বিদ্যালয়ের মূল ভবনে ঢুকে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় একজন সহকারী শিক্ষিকা কারণ জানতে চাইলে তাঁরা তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা বেরিয়ে এলে বিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সরঞ্জামসহ কার্যালয় ও শ্রেণীকক্ষের আসবাব ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয় ও শ্রেণীকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ৩০-৪০ জন বনি আমিনের নেতৃত্বে বিদ্যালয় চত্বরে বসে আছেন। তাঁদের আশপাশে শিক্ষার্থীদের ভিড়। জানালা দিয়ে দেখা যায়, কার্যালয় কক্ষের মেঝেতে ভাঙা চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
বিদ্যালয়ের নবম ও অষ্টম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রছাত্রী প্রথম আলোকে বলে, ‘গতকাল সকালে কয়েকজন লোক শ্রেণীকক্ষে গিয়ে আমাদের বেরিয়ে যেতে বলেন। এ সময় একজন শিক্ষিকা কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। অবস্থা দেখে আমরা ভয়ে স্কুল থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাই। লোকজন তখন কার্যালয় ও শ্রেণীকক্ষ ভাঙচুর করেন।’
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০০৮ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হয়। সে সময় সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে ১০ জন আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নরিগুন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনি আমিনও রয়েছেন। তিনি ওই পদে আবেদন করে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করতে থাকেন। যোগাযোগের পর প্রধান শিক্ষক পদে নিজের যোগদান অনিশ্চিত দেখে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করতে মূলত এই ভাঙচুর ও তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনি আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে অনেক দিন ধরে অনিয়ম চলে আসছে। কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি শিক্ষক নিয়োগের নামে কয়েক লাখ টাকা অনুদান নিয়েছে। সে টাকার কোনো হিসাব নেই। এলাকার লোকজন এসব অনিয়মের তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে। আমি শুধু জনগণের সঙ্গে আছি মাত্র। প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ ঠেকাতে তালা দেওয়া হয়নি। তবে তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ খান বলেন, বিদ্যালয়ে তালা ও ভাঙচুরের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ রায় রাত নয়টার দিকে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পাতাটি ৩৩২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন