logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo গলে যাচ্ছে হিমালয়ের হিমবাহ - পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে ১৩০ কোটি মানুষ
এশিয়া মহাদেশের ১৩০ কোটি অধিবাসী হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলো থেকে সৃষ্ট পানির উেসর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে এবং এতে মহাদেশের একটি বিশাল অংশ খরায় আক্রান্ত হতে পারে। হিমালয়ের দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা হিমবাহগুলো পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের মূল পানির উত্স।
এই অঞ্চলে তিন দশক ধরে প্রতি দশকে শূন্য দশমিক ১৫ থেকে শূন্য দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। ফলে হিমবাহের গলে যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আজ শুরু হওয়া জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করতে চাচ্ছেন এ ব্যাপারে প্রচার অভিযান চালানো কর্মীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন ডব্লিউডব্লিউএফের জীবনের জন্য জলবায়ু আন্দোলনের নেতা প্রশান্ত সিং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী ৪০ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ হিমবাহ গলে যাবে। কোপেনহেগেন সম্মেলনে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তাই হিমালয়ের পানির উেসর ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় নিতে হবে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যেই হিমালয়ের সব হিমবাহ গলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব এরই মধ্যেই অনুভূত হচ্ছে।
নেপাল ও ভুটানে গলে যাওয়া হিমবাহ থেকে বিশালাকৃতির হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উপচে ভাটিতে থাকা গ্রামগুলো প্লাবিত করতে পারে। নেপালের পর্বতারোহী ও পরিবেশকর্মী দাভা স্টিভেন শেরপা বলেন, ২০০৭ সালে মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে একটি তুষারপাতের ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন। হিমালয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, একটি হিমবাহের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর সেটি ধসে পড়ে।
এদিকে এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার হার দ্রুত বৃদ্ধির কারণে বেশি করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হচ্ছে। আর হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ মেয়াদে নদীর প্রবাহ হ্রাস পাবে বলে ওই সমীক্ষায় জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উত্সগুলো থেকে পানির প্রবাহ কমে গেলে ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আইপিসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোতেও ব্যাপক বন্যা দেখা দিতে পারে এবং পরে সেখানকার নদীগুলো শুকিয়ে খরা দেখা দিতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীদের একটি অংশ হিমবাহ গলে যাওয়ার এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁরা জানিয়েছেন, হিমবাহগুলো বরং আরও জমাট বাঁধছে। সম্প্রতি এই ধারণার সমর্থক ভারতীয় ভূতত্ত্ববিদ বিজয়কুমার রায়নাকে উদ্ধৃত করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে খাটো করে বর্ণনা করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছেন সে দেশের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ।
নেপালভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) তিন দশক ধরে হিমালয় অঞ্চলের ওপর গবেষণা চালাচ্ছে এবং সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণে আরও গবেষণা দরকার।
অতিরিক্ত উষ্ণায়নের জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণ: যা ধারণা করা হতো, তার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড। গতকাল রোববার প্রকাশিত এক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আর এতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ব্যাপারে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোপেনহেগেন সম্মেলন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
নেচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা জানান, জলবায়ু নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহূত একটি উপাত্তের কারণে সম্ভবত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণের কারণে প্রাকৃতিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রক্রিয়াটির প্রতি ভালো করে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আর এতে কার্বন নিঃসরণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হিসাব-নিকাশে গোলমাল হয়ে থাকতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনের মূল রচয়িতা ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের ড্যান লান্ট বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি আতঙ্ক তৈরি করতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববাসী কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে এর মাত্রা কতটুকু হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী আমরা। কার্বন নিঃসরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কেও আমাদের জানতে হবে।’ এএফপি।

পাতাটি ৪০৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন