logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo এক ছাত্রলীগ নেতার মহানুভবতায় বেচে গেল ২৪ শিবির নেতাকর্মী
বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের কাছে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় কর্মীদের থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। একটি ছাত্রাবাস থেকে মামলার আসামি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশের ওপর এ হামলা চালান।ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজ-সংলগ্ন জহুরুলনগর এলাকায় ‘বন্ধন’ নামে ব্যক্তিমালিকানাধী একটি ছাত্রাবাসে শিবিরের বেশ কিছু নেতা-কর্মী বসবাস করেন। গত ২০ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষের পর তাঁরা ছাত্রাবাস ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় শিবিরের ১৯৮ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তারা আবার মেসে উঠে।এর মধ্যে গত রোববার রাতে ওই ছাত্রাবাসে শিবিরের ২৪ জন নেতা-কর্মী ফিরে আসেন। কিন্তু খবর রটে যে ছাত্রাবাসে অবস্থান নেওয়া শিবিরকর্মীরা ক্যাম্পাসে নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী গতকাল সোমবার দুপুর একটার দিকে ওই ছাত্রাবাস ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ওই ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, ছাত্রাবাসের ভেতরে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগের নেতাদের সম্মতিতে তাঁদের ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে ছাত্রলীগের দাবি, ছাত্রশিবিরের ওই ২৪ জন নেতা-কর্মীর মধ্যে মামলার আসামি আছে কি না, তা যাচাই না করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।তাঁদের থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে শুভাশীষ পোদ্দার আহত হন। তাঁকে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইটপাটকেলের আঘাতে একটি জাতীয় দৈনিকের ফটোসাংবাদিক ঠাণ্ডা আজাদ ((প্রথম আলো কি ঠান্ডা কালের কন্ঠের সাংবাদিক বলে তার প্রত্রিকার নাম উল্লেখ করে নাই?)):Pআহত হন। তাঁর ক্যামেরাও ভেঙে যায়। এ ছাড়া ফটোসাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, এম আর সাইন, আবদুর রহিমসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী আহত হন।জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার জানান, তাঁর সংগঠনের নেতা-কর্মীদের থামাতে গিয়ে তিনি ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন।
সরকারি আযিযুল হক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুন্নবী রাসেল অভিযোগ করেছেন, পুলিশ মামলার আসামিদের যাচাই না করেই ছেড়ে দিয়েছে।
ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন মিয়া জানান, বন্ধন ছাত্রাবাসটি তাঁদের। ১০ বছর ধরে তাঁদের কর্মী ও সমর্থকেরা সেখানে থাকেন। গত ২০ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের কর্মীরা এই ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে ছাত্ররা ছাত্রাবাস ছেড়ে চলে যান। গত রোববার রাতে সেই সব ছাত্রের মধ্যে ২৪ জন ছাত্রাবাসে ওঠেন। তাঁদের কর্মীদের নাজেহাল করতেই এসব করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খালেকুজ্জামান জানান, যেহেতু তল্লাশি করে ছাত্রাবাসটিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি, সে জন্য উপস্থিত ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পরামর্শেই শিবিরের ছেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীদের ইটপাটকেলের আঘাতে তাঁদের এক-দুজন সদস্য সামান্য আঘাত পেয়েছেন।

পাতাটি ৩১৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন