logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে ব্যাপক ভাবে পালিত হলো ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী


বছরের শুরুতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পর থেকে শিক্ষাঙ্গনগুলোসহ সারা দেশে বেপরোয়া ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কারণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্থিরতা। বন্ধ হয়ে যায় বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সারা বছর যেমন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিলেন, তেমনি ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ফলে বিঘ্নিত হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ।


ছাত্রলীগের বেসামাল কর্মকাণ্ড এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ৪ এপ্রিল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে যান। গত বছরের বিভিন্ন সময়ে তিনি টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের নসিহত করেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো কাজে আসেনি।


এমন পরিস্থতিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হবে আজ ৪ জানুয়ারি। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, ছাত্রলীগকে সামলাতে না পারাটাই গত এক বছরে সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা ছিল। ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ, টেন্ডারবাজি ও উত্তেজনার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্ন্ন হয়েছে।


তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান মনে করেন না যে ছাত্রলীগ গত এক বছরে খারাপ কাজ করেছে। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরোনো কয়েকটি ঘটনা ঘেঁটে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। এখন সামনের কথা ভাবতে হবে। গত এক বছরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম এমন কিছু ছিল না যে বছরজুড়ে সমালোচনা করতে হবে, বরং ইতিবাচক দিকই রয়েছে বেশি। সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের ছাত্রলীগ হবে আরও গতিশীল ও গঠনমূলক।


সংঘর্ষ, উত্তেজনা: নির্বাচনের পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর কক্ষ দখল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর সারা বছরই বিভিন্ন দল-উপদলে সংঘর্ষ ছিল।
ক্যাম্পাসে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, গত এক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সবগুলো আবাসিক হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, আহত হয় শতাধিক ছাত্র। ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাহবাগ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন আটজন ছাত্রলীগ কর্মী, যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র।


ছাত্রলীগের সংঘর্ষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ১৬ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন্দল। সেদিন ছাত্রলীগের এক নেতার অস্ত্রসহ ছবি সারা দেশে আলোচনার ঝড় তোলে। ছাত্রলীগের ওই সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়। ফলে ছাত্রলীগের কার্যক্রমও স্থগিত করে দেওয়া হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছরই ছাত্রলীগের অস্থিরতা ছিল। গত বছর মার্চে শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী নিহত হন। আহত হন দুই পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী। এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরের আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষককে পেটান ছাত্রলীগের নেতারা। বছরজুড়েই এই উত্তেজনা ছিল।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে ছিল। সংঘর্ষের জের ধরে ২১ জানুয়ারি সেখানে ছাত্রলীগের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ফটক ও ভবনে ১৬ জানুয়ারি তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।


এ ছাড়া পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগ ছিল বেপরোয়া।


কমিটিগুলোর মেয়াদ নেই: ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি দুই বছর এবং জেলা শাখা কমিটির মেয়াদ এক বছর। সংগঠনটির বর্তমানে মোট ৮৭টি জেলা শাখা রয়েছে। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ৩ এপ্রিল কাউন্সিলে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে মাহমুদ হাসানকে সভাপতি ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও দেড় বছর আগে মেয়াদ শেষ করেছে।

পাতাটি ৩১৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন