logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় :: হলের কক্ষ থেকে শিবিরের ৫০০ পুস্তিকা জব্দ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষ থেকে গত শনিবার রাতে জামায়াত-শিবিরের প্রায় পাঁচ শ পুস্তিকা জব্দ করা হয়েছে। বইগুলোতে আন্তর্জাতিক ইসলামি সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ (ওয়ামি) বাংলাদেশ শাখার সিল রয়েছে। কক্ষটি ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা পাঠাগার হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ামি উগ্রপন্থী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সহযোগী সংগঠন।
শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের জন্য হলে একটি সাধারণ পাঠাগার রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলের নিচতলার অফিসের সঙ্গে একটি কক্ষকে পাঠাগার হিসেবে গড়ে তোলে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন প্রাধ্যক্ষ মর্ত্তুজা খালেদের যোগদানের পর থেকে পাঠাগারটি বন্ধ।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার তাঁরা হল পাঠাগারে পর্যাপ্ত বই সরবরাহসহ ১১ দফা দাবিতে প্রাধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দেন। ওই দিন রাত নয়টার দিকে হল প্রশাসন নিচতলার ওই কক্ষের দরজার তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ বই দেখতে পায়। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এবং মতিহার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় হলের শিবিরের কর্মী কামরুলসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র পাঠাগারের বই জব্দ না করার অনুরোধ করেন। প্রক্টর বইগুলো জব্দ করে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যান।
মতিহার থানার পুলিশ ও প্রক্টরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা বইয়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর লেখা ‘ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন’, ‘ইসলামী সমাজবিপ্লবের ধারা’; জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের লেখা ‘আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব’, মিসরের লেখক আবদুল বাদি শাকারের ‘আমরা দাওয়াতের কাজ কিভাবে করব’ রয়েছে।
হল প্রাধ্যক্ষ মর্ত্তুজা খালেদ বলেন, ওই কক্ষে পাঠাগার তৈরি এবং পাঠাগারে বই সংগ্রহের জন্য হল প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় ৫০০ ইসলামি ধর্মীয় বই জব্দ করা হয়েছে। বেশির ভাগ বইয়ের মূল বক্তব্য জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা।’ তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কোনো অনুমতি না নিয়ে কক্ষটি পাঠাগার হিসেবে ব্যবহার করত। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলম জানান, বই জব্দ করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন অনুমতি না নিয়ে হলের কক্ষকে পৃথক পাঠাগার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী ও সহায়তাকারী জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

পাতাটি ৩৪০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন