logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo দেশে একদলীয় শাসনের অমানবিক উন্মাদলীলা চলছে : রিজভী
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দেশে এখন একদলীয় ব্যক্তিশাসনের অমানবিক উন্মাদলীলা চলছে। এই সরকার ভোট, সংবিধান, প্রকৃত গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত বহুপাক্ষিক পার্লামেন্ট, বহুদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনসহ মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে নির্দয় দমনের কষাঘাতে দেশের গণতন্ত্রকে শয্যাশায়ী ও মরণাপন্ন করেছে।


বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।


রিজভী বলেন, সরকার নিষ্ঠুর দলন পেষনে গোটা রাষ্ট্রটিকে দখলে নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। তাই এই অবৈধ সরকার গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দমন করতে শিকারী বাঘিনীর মতো ওঁৎ পেতে থেকে বিরোধী দলের মিটিং মিছিলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।



তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্য বিবৃতি শুনলে মনে হয় বস্তির বিদ্যমান সংস্কৃতির পাঠশালাই হচ্ছে এদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যই এদের মুখে অসভ্য শব্দ ছাড়া আর কোনো সুরুচিপূর্ণ শব্দ তারা ব্যবহার করতে জানেন না।



‘প্রধানমন্ত্রী একজন পাকা খেলোয়াড়, তিনি মাঠে থাকলে কেউ গোল করতে পারে না’ এক মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তিনি ঠিকই বলেছেন, সরকারের অনাচার, নিদারুণ ব্যর্থতা, কুপমণ্ডুকতার আবর্তে রক্তারক্তির খেলায় প্রধানমন্ত্রী এতোটাই পারঙ্গম যে, দেশে-বিদেশে তার জুড়ি মেলা ভার। ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে তাদের এক রকমের চেহারা থাকে, আর ক্ষমতাসীন হওয়ার পর মুখোশের আড়ালে তাদের আরেক রকমের চেহারা বের হয়।




তিনি বলেন, ছলে বলে কৌশলে মিথ্যা প্রবঞ্চনার নানা ধরনের ফাঁদ তৈরি করে ক্ষমতায় এসে তারা নিষ্ঠুর রাজার ন্যায় খেয়ালখুশীর বশবর্তী হয়ে জনগণকে পীড়ণ করে।



রিজভী বলেন, হত্যা, গুম, খুন, গুপ্তহত্যা, অপহরণ, উৎপীড়ণ, নির্যাতনে বিরোধী দলশূন্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন মাঠে প্রধানমন্ত্রী ভালোই খেলে যেতে পারবেন। কারণ এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগী থাকবে তাদের পোষ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের কেউ কেউ যারা সরকারের বাঁশিতে ফু দেয় কিন্তু সেই সব গণমাধ্যম যারা ন্যায় ও সত্য তুলে ধরে তারা হয় জেলে না হয় সরকারি হুমকির মুখে পড়বে। যেমন অনেকেই সরকারের চুশুল হয়ে এখন নিপীড়ন ভোগ করছেন।



রিজভী বলেন, ক্ষমতা পাওয়ার আগে এরা পারাবতের মতো নিরীহ চেহারা দেখায়, আর হাতে ক্ষমতা পেলে বিষাক্ত সাপের মতো চতুর হয়ে ফণা তোলে।



তিনি বলেন, এরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাস করতে করতে বিচার বিভাগের মাথায়ও বন্দুক রেখে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে। ক্ষমতাসীনদের অন্যায়, অবৈধ কর্মকাণ্ড, মহামারীর ন্যায় দুর্নীতি, অবাধ লুটপাট আর খুনোখুনির ঘটনা সরকারের নানাবিধ চাপ সত্ত্বেও বেরিয়ে আসছে সংবাদ মাধ্যমে।



রিজভী আহমেদ বলেন, ১/১১ মঈন-ফখরুদ্দিনের আমলের এক সময়ের মামলাগুলো শুধুমাত্র আওয়ামী নেতাদেরটাই ভোজবাজির মতো উড়ে যায়, আর বিএনপিরগুলো লালন-পালন করা হয়। কারণ লালিত মামলা দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায় কিনা সেটা তারা পরীক্ষা করে দেখছে।



তিনি বলেন, দুদক নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে যেটি এই ভোটারবিহীন সরকারের বিশ্বাসভাজন ধোলাই লন্ড্রিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই লন্ড্রি থেকে অবৈধ ক্ষমতাসীনদের মাদক ব্যবসায়ী এমপি, ভূমিদস্যু মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অভিযুক্ত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গের সব অভিযোগ সাফাই হয়ে বেরিয়ে আসে। আর বিএনপির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দাঁড় করিয়ে মামলা মোকদ্দমায় ভোটারবিহীন সরকারের নীল-নকশা বাস্তবায়ন করে।


যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীন মহলে এতো কালো বিড়াল থাকার পরেও দুদক বিষন্ন ভালুকের মতো চুপ করে থাকে।


তিনি বলেন, এক চিরস্থায়ী ক্ষমতাবলয় তৈরি করে রাখার জন্য আদালতে দলীয় বিচারক নিয়োগ দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেল-জুলুমের অক্টোপাশে জড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে গত প্রায় ছয় বছর ধরে। উচ্চতর আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত যারা ন্যায় বিচারক, বিবেক, মনন, চিন্তা ও নৈতিকতায় স্বায়ত্ত্বশাসিত, সে সব ন্যায়পরায়ণ বিচারকদের বিচারিক দায়িত্ব দেয়া হয় না। যেদেশে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ ভরসার জায়গাটিতে অবিশ্বাস জন্মে সেদেশের মানুষকে গভীর উদ্বেগ, আশঙ্কা, ভীতি ও অন্ধকারের মধ্যে দিনযাপন করতে হয়।


রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১ সরকারও বর্তমান ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা দিয়েছিল দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, নিজের আত্মীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেছিল অথচ ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর সব মামলাই হাওয়াই-মিঠাইর মতো হাওয়া হয়ে গেল অথচ বিএনপি চেয়ারপারসনের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলাগুলো খুব যত্নের সাথে লালন করে রাখা হচ্ছে।


তিনি বলেন, তাই বিদ্যুৎ চমকানোর গর্জনে এই অহংকারী মিথ্যাবাদী, কুরুচিপূর্ণ, ভর্ৎসনাপূর্ণ, অশ্রাব্য বক্তব্য প্রদানকারীদের প্রতিহত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। না হলে সমাজে সভ্যতা ও সুস্থতা বিনষ্ট হবে এবং নাগরিক স্বাধীনতা আরো বিপন্ন হয়ে পড়বে।

পাতাটি ৩২৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন