logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রামেক হাসপাতালে আলেয়ার সেবা কি এখানেই থেমে যাবে?
মো: মাসুদ: রামেক হাসপাতালে শতাধিক অজ্ঞাত রোগীর সেবা করেছেন তিনি । তার এ গুণের জন্য রামেক হাসপাতালের পরিচালকের কাছ থেকে শুর্ব করে সবার কাছে অনেক প্রিয় উক্ত আলেয়া।
অভাবি আলেয়ার মা রওশন আরা পরের বাড়িতে কাজ করেন। রামেক হাসপাতালে যতো অজ্ঞাত নামে রোগী ভর্তি হয় সবার দায়িত্ব নেন আলেয়া। কোনো ওয়ার্ডে অজ্ঞাত রোগী ভর্তি হলে শুর্ব হয় আলেয়ার খোঁজ, অজ্ঞাত রোগীর সংবাদ পাওয়া মাত্র ছুটে যান আলেয়া রোগীর কাছে। চলে তার নিরলস সেবা। কোনো রোগী ৩ মাস কোনো রোগী ৪ মাস ধরে সেবা করে। অনেক খোঁজাখুজির পর রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের সন্ধান মেলে। এরপর আলেয়া রোগীর স্বজনদের হাতে রোগীকে বুঝিয়ে দেন এতেই তিনি খুশি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাস-পাতালের জর্বরি বিভাগে দুইবছর আগে ৮ বছরের এক অজ্ঞাত শিশুকে দুইজন ব্যক্তি ফেলে রেখে চলে চায়। শিশুটির দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে ও বাম হাত কবজির ওপর থেকে কাটা। শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছিল এক নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে মেঝেতেই পড়ে ছিল শিশুটি। একদিন পার হলেও তার কোনো চিকিৎসা হয়েছিল না। শিশুটির অপারেশনের প্রয়োজন ছিল। সংবাদ পেয়ে আলেয়া ছুটে আসেন। নিজেই ওই শিশুর সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। শিশুটির অপারেশন হয়। নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে ও অক্লান্ত সেবার মাধ্যমে আলেয়া শিশুটিকে বাঁচিয়ে তোলেন। সেই থেকে প্রায় দুই বছর পার হলে গেলেও শিশুটির খোঁজ করতে আসেনি কেউ। শিশুটির দায়িত্ব নিতে সবাই সরে আসেন। আর সেই থেকেই আলেয়াই শিশুটির সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। বর্তমানে শিশুটি তার কাছেই থাকে আলেয়া তাকে আদর করে বল্টু বলে ডাকে। তার ভালো নাম রেখেছেন আমিনুল ইসলাম। শিশুটি ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না। তবে শিশুটির মুখে মা ডাকটি স্পষ্ট। আলেয়াকে ওই শিশুটি মা বলে ডাকে।
একদিকে অভাবের সংসার অপর-দিকে বল্টুর দায়িত্ব নেয়ায় আলেয়া আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন। ওই শিশুটির পেছনে প্রতিমাসে আলেয়ার খরচ হয় আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা। এ টাকা জোগাড় করাও তার জন্য মুশকিল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রামেক হাস-পাতালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়। সেখানেও তার নিয়োগ হয়নি। দরখাস্ত দিয়েও কপালের দোষে রাজশাহীর কোটা না থাকায় চাকরি থেকে বঞ্চিত হন আলেয়া।
আলেয়া জানান, বল্টু তাকে মা বলে ডাকে। আর তিনিও তাকে ছেলের মতো ভালোবাসেন। আলেয়া রামেক হাসপাতাল সংশিৱষ্ট বিষয়ে কাজ করতে চায়।
রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত কয়েকজন চিকিৎসক জানান, আলেয়াকে তারা সবাই চেনেন তার বিনামূল্য সেবা সম্পর্কে হাসপাতাল সংশিৱষ্ট কারো অজানা নাই। তার সমাজসেবামূলক কাজের জন্য সমাজের সচেতন মানুষদের সম্মান জানানো উচিৎ বলে চিকিৎসকরা মন্তব্য করেন।

পাতাটি ১৭৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন