logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo বারিন্দ মেডিকেল কলেজে চাকরি পেলেন লিপি
এবছর ২৪ এপ্রিল সাভার ট্রাজেডিতে স্বামী বিপ্লবকে হারিয়েছিলেন লিপি বেগম। সাভারের রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় কাজ করতেন বিপ্লব। ৬ তলাতে লিপি নিজেই কাজ করতেন। ভবন ধসের ওই ঘটনায় লিপি বেঁচে গেলেও তার স্বামী বিপ্লব মারা যান। স্বামী বিপ্লব মারা যাওয়ার পর দুই মেয়ে বিন্তি (১২) ও বৃষ্টিকে (৭) নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন লিপি বেগম। অসহায় হয়ে নগরীর জিন্নানগর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। অভাবি শ্বশুরবাড়িতে কোনো কাজ না পেয়ে আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অবশেষে তার অভাবের দিন ঘুচছে। নগরীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়া পদে কাজ পেয়েছেন লিপি বেগম।
লিপি বেগমের এ অসহায়ত্বের কথা সোনার দেশের আলোকপাতে প্রকাশিত হয়েছিল গত ২৮ আগস্ট। ওই প্রতিবেদনটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুদ্দিনের। এরপরই তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে আয়া পদে চাকরি দেয়া হয়। গতকাল শনিবার লিপি বেগমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়া পদে যোগদানপত্র তুলে দেয়া হয়।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোপাল চন্দ্র সরকার, চীফ অপারেটিভ অফিসার মেজর (অব.) হাফিজুর রহমান মোল্লা, সোনার দেশের নির্বাহী সম্পাদক হাসান মিল্লাত, সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান বুলবুল চৌধুরী।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমি সোনার দেশ পত্রিকায় যখন প্রতিবেদনটি দেখি তখনই আমার ইচ্ছে জাগে অসহায় লিপির জন্য কিছু করার। আমার মনে হয়েছে অসহায় লিপি ও তার দুই সন্তানের জীবিকানির্বাহ করার জন্য যদি কোনো কিছু করতে পারি তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো। তাকে অনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানপত্র দিতে পেরে আমার ভালো লাগছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাকে চাকরি দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় নি। তার দিকে আমাদের দায়িত্ব সবসময় থাকবে। তিনি যাতে সামাজেও সম্মান পান সেদিকে লক্ষ্য রাখবো।’
বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম বলেন, ‘বিষয়টা আমরা মানবিক দিক দিয়ে চিন্তা করেছি। স্থানীয় ভাবে পুনর্বাসন করতে পারলে আমরা আনন্দিত হবো।’
এদিকে কোনো কাজ পাওয়ায় অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়ে ভীষণ খুশি লিপি বেগম। লিপি বলেন, ‘চাকরিটা পেয়ে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন পার করছিলাম। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুব চিন্তিত ছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘সাভারের রানা প্লাজা ধসে আমি স্বামী হারিয়েছি। আমার দুইটি সন্তান আছে। আমি এখন তাদের ভালোভাবে মানুষ করতে চাই। আমার বড় মেয়ে বিন্তি নগরীর সপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে ও ছোট মেয়ে বৃষ্টি (৭) পড়েন দ্বিতীয় শ্রেণিতে।’
লিপি আরো বলেন, ‘মাঝে মাঝে আামি চিন্তা করতাম আর রাতে অন্ধকার ঘরে বসে কাঁদতাম। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারতাম না। আমি ভীষণ শঙ্কিত ছিলাম তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। চাকরি পাওয়ায় আমার মতো আমার দুই মেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছে।

পাতাটি ২২৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন