logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রুয়েটের জন্মদিন আজ
রাজশাহী শহর থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মার তীর ঘেষে অবস্থিত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। সারি সারি দেবদারু শোভিত রুয়েট ক্যাম্পাসের আয়তন ১৫২ একর। রুয়েট বাংলাদেশের চতুর্থ এবং উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। মহাবিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হওয়ার পর হাঁটি হাঁটি পা পা করে অগ্রযাত্রার এক দশক অতিক্রম করলো বিশ্ববিদ্যালয়টি। আজ ১ সেপ্টেম্বর রুয়েটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উত্তরবঙ্গের বাতিঘর হিসেবে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করে দেশের প্রযুক্তি খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে ১২২ জন ছাত্র নিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৮৬ সালে তা রূপান্তরিত হয় বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), রাজশাহীতে। দেশে ও বিদেশে প্রকৌশল শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি এবং প্রকৌশল বিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে ২০০৩ সালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ে ¯œাতক এবং ¯œাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেন। শিক্ষকের সংখ্যা দুই শতাধিক।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তখন এখানে যন্ত্রকৌশল, পুরাকৌশল এবং তড়িৎকৌশল বিভাগের অধীনে সম্মান ডিগ্রি প্রদান করা হতো। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তখন এর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। কারণ এর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম নির্ধারণ করতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়নন্ত্রণ করতো পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৭৩ সালে একটি কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিশন ও কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের চারটি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়কে স্বায়ত্ত্বশাসন দেয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এজন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. ওয়াহিদ উদ্দীনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দেশের চারটি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়কে একত্রে নিয়ে ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) গঠন করে। কিন্তু সীমিত স্বায়ত্তশাসন এবং বিআইটি অধ্যাদেশের কিছু সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। তখনই বিআইটিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়কে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) এ রূপান্তর করা হয়।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে তিনটি অনুষদ। বর্তমানে ছয়টি বিভাগে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আন্ডার গ্রাজুয়েট ডিগ্রি প্রদান করা হয় এবং পাঁচটি বিভাগে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি যেমন এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, এম ইঞ্জিনিয়ারিং, এমফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের আওতাভুক্ত বিভাগগুলো হলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আরবান রিজিওনাল প্ল্যানিং, গণিত, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন বিভাগ। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগগুলো হলো ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এছাড়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের বিভাগগুলো হচ্ছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্লাস ও সিরামিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মানবিক বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে আগামী ভর্তি পরীক্ষায় রুয়েটে আর্কিটেকচার এবং মেট্রানিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নামের দুটি নতুন বিভাগ খোলা হচ্ছে।
সুদৃশ্য রুয়েট ক্যাম্পাসে বিভাগীয় ভবন, ল্যাবেরেটরি, গ্রন্থাগার, ব্যায়ামাগার, কেন্দ্রীয় সাধারণ কক্ষ, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা অবস্থিত। রুয়েটে ছাত্রদের জন্য পাঁচটি এবং ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে সামনে রেখে অতীতের মতো আগামীতেও উচ্চতর গবেষণা করে দেশকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে র্যালি, আলোচনাসভা, প্রোগ্রামিং কনটেস্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মর্ত্তুজা আলী বলেন, ‘দেশকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে অবদান রাখতে রুয়েট বদ্ধপরিকর।’

পাতাটি ১৮৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন