logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীতে যানজটে জনদুর্ভোগ
ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহী নগরীতে জনসাধারণের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই দেখা দিচ্ছে যানজট। শুক্রবার ছুটির দিনও নগরীর ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও দেখা গেছে যানবাহনের লম্বা সারি। নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার বড় রাস্তাসহ আশপাশের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে যানজট আগের চেয়ে এখন অনেকাংশে বেড়েছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জনদুর্ভোগ।
এদিকে, মহানগরীর ব্যস্ততম মালোপাড়া-কাদিরগঞ্জ রাস্তায় যানজট এখন নিত্যঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যস্ততম এই রাস্তাটি উপশহর মোড় থেকে মহিলা কলেজ হয়ে সোনাদীঘির মোড়ে গিয়ে ঠেকেছে। তবে যানজট লেগে থাকার অন্যতম একটি কারণ হলো রাস্তাটি খুবই সরু। সরু এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার রিকশা-অটোরিকশ থেকে শুরু করে সব ধরনের মাঝারি আকারের যানবাহন। রাস্তার দুই পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
মালোপাড়া মোড় থেকে কাদিরগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তাটির দুই পাশে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ নজমুল হক উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার রয়েছে এলাকাটিতে। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার লোকজন যাতায়াত করেন এই রাস্তাটি দিয়ে। মূলত: রিকশা, অটোরিকশা, মাইক্রো ও মোটরসাইকেলের যাতায়াত বেশি এই রাস্তায়। কিন্তু রাস্তাটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক সরু হওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটির দুই পাশে বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার আছে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কুল শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা রিকশায় করে কোচিং সেন্টারগুলোতে আসতে শুরু করেন। রাস্তাটি এতোই সরু যে দুই পাশ দিয়ে দুটি রিকশা একসঙ্গে গেলে আরেকটি রিকশার যাওয়ার জায়গা থাকে না। এছাড়া রাস্তাটি সরু হওয়ায় প্রায়ই ঘটে থাকে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।
তারা আরো জানান, রাস্তাটিতে যানজট লেগে থাকার একটি কারণ ওই এলাকার চালের আড়ত। কাদিরগঞ্জ এলাকায় অনেকগুলো চালের আড়ত রয়েছে। চাল আনা-নেয়া করার জন্য প্রায়ই এই রাস্তায় প্রবেশ করে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও মাঝারি ধরনের যানবাহন। দীর্ঘসময় ধরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে মাল ওঠানামা করা হয়। এতে রাস্তার অর্ধেক দখল হয়ে যাওয়ায় সরু রাস্তাটি আরো সরুহয়ে পড়ে। তখন মানুষকে আরো বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এছাড়া রেল গেইট- সাহেব বাজার সড়কটিতে সম্প্রসারণ কাজ চলায় নগরীর ব্যস্ততম এ সড়কে যান বাহনের চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে, রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় রাণীবাজার-সাগরপাড়া সড়কেও লেগে থাকে যানজট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে নগরীতে রিকশা ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে অনেক। এরমধ্যে অটোরিকশা চলাচল করে প্রায় সাড়ে সাত হাজার। এছাড়া চলাচল করছে ৩০ হাজার রিকশা আর দেড় হাজারের মতো হিউম্যান হলার। নগরীতে লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার হলেও এর বাইরে আরো প্রায় দশ হাজার রিকশা চলাচল করছে লাইসেন্স ছাড়াই।
ঈদকে সামনে রেখেই মূলত মহানগরীতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যানবাহনের এত বেশি চাপ সত্ত্বেও ছোট পরিসরে দু-তিনটি স্থান ছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নেই বললেই চলে। এতে করে দ্রুত যানজট সৃষ্টি হয়। আর মানুষকে পড়তে হয় দুর্ভোগে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, নগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদীঘি মোড় এবং মালোপাড়া মোড় থেকে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের জন্য প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে একনেক। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহে যানজট নিরসন ও শক্তিশালী কার্যকর সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ কোটি ১৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সরকার ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে। ইতোমধ্যে রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাস্তাটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর দুর্ভোগ অনেক কমে আসবে বলে সংশি¬ষ্টরা মনে করছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) তৌহিদ আরিফ জানান, নগরীতে যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও অটোরিকশা, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন কারণে তা কাজে আসছে না। এরপরও ঈদকে সামনে রেখে মহানগর ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে সক্রিয় তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মিনি চত্বর, বাটার মোড়, নিউ মার্কেট, গৌরহাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টকে গুরুত্বপূর্ণ ধরে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া দিনের বেলায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে মনি চত্বর পর্যন্ত সব ধরণের গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাইরে থেকে বাজারে আসা ক্রেতাদের কার, জিপ ও মাইক্রোবাস পশ্চিমে রাজশাহী কলেজ এবং পূর্বে আলুপট্টি আওয়ামীলীগ অফিস এলাকায় পার্কিং এর নিদের্শ দেয়া হয়েছে। নগরীর যানজট নিরসনে এসময় নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগীতা কামনা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পাতাটি ২১৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন