logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo হুমকীর মুখে শহররক্ষা বাঁধ
রাজশাহী মহানগরীর পশ্চিমে পবার হরিপুর ইউনিয়নের সোনাইকান্দি এলকায় পদ্মায় ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলার চর অঞ্চলে ২০ কিলোমিটার জুড়ে নদী ভাঙ্গন অব্যহত থাকায় ফসলী জমি ও বাড়ীঘর হুমকীর মূখে পড়েছে। পবার সোনাইকান্দি এলাকায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী ব্যবস’া না নেয়া হলে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধটিও ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়বে বলে মনে করছেন স’ানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর পানি বিজ্ঞান বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত ১ জুন রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ৯.৫ মিটার। এরপর পানি বাড়তে থাকে। একমাসে পানি বাড়ে ৫ মিটারেরও বেশি। গত ১ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মার উচ্চতা ছিল ১৪.৫৭ মিটার। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। গতকাল ২ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মার উচ্চতা ছিল ১৪.৮৭মিটার। গতকাল মঙ্গলবার পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত পবার সোনাইকান্দি এলাকায় গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে গত ১৫ দিন থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। পানির স্রোতে ইতোমধ্যে প্রায় ২শ’ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গতকালও নদীতে প্রচুর স্রোত ও ভাঙ্গন দেখা গেছে। সেখানে কথা হয় টিয়া আলম নামে সোনাইকান্দির একজন কৃষকের সাথে। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে তারসহ অনেকের জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এইসব জমিতে আখ, পাটসহ বিভিন্ন সবজীর আবাদ ছিলো। বর্তমানে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় বাড়িঘরসহ আরো অনেক জমি হুমকিতে পড়েছে।
হরিপুর ইউপির ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য কামরুজ্জামান বাদল জানান, গত ১৫ দিন থেকে এই এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বেড়পাড়া থেকে সোনাইকান্দি হয়ে নবগঙ্গা এলাকা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন চলছে। এই ২ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক দিয়ে পিচিং না করার কারনে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এর ফলে এলাকার ৫ নং সোনাইকান্দি আই বাধ চরম হুমকিতে পড়েছে। এই ভাঙ্গনের মধ্যে শত শত বিঘা জমির আবাদ-ফসল ও বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। এই ভাঙ্গনের কারনে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধও হুমকীতে রয়েছে। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ভাঙ্গনের কথা রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা গত ২৭ জুন ভাঙ্গন এলাকা দেখে গিয়ে ঢাকায় রিপোর্ট করেছে বলে চেয়ারম্যান জানান।
এদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলার চর অঞ্চলে ২০ কিলোমিটার জুড়ে এই নদী ভাঙ্গন অব্যহত থাকায় ফসলী জমি ও বাড়ীঘর হুমকীর মূখে পড়েছে। এই বর্ষ মৌসুমে বেশ কয়েকটি গ্রাম পদ্মায় বিলিন হওয়ার আশংখা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায় গত বর্ষা মৌসুমে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বয়ালমারি, মানিক চক, চর নওশেরা, হঠাৎপাড়া, আমতলা, ডাংরিপাড়া, আলাতুলী ইউনিয়নের কোদালকাটি, লুটারীপাড়া, বগচর, হাকিমপুর, হরিশপুর, রাণীনগর, বালুগ্রাম, ছয়রশিয়া, দেবীনগর ইউনিয়নের সাওতালপাড়া, নামোহড়মা, উপর হড়মা, পাড়াল টোলা, গ্রামের প্রায় ১৭শ বাড়ী ঘর ১০ হাজার হেক্টর ফসলী জমি ২ লাখ ফলজ ও বনজ গাছ ও আলাতুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর থেকে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় সাঁওতালপাড়া, নামো হড়মা, বালুগ্রাম, রানীনগর ও ছয়রশিয়া গ্রামগুলো নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙ্গন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে আরও ৩ হাজার বাড়ীঘর, হড়মা উচ্চ বিদ্যালয়, হড়মা গ্রামের কয়েকটি প্রাইমারী স্কুল, ৫টি মসজিদ, একটি হাট। অপরদিকে বালু উত্তোলন ও গত বর্ষা মৌসুমে পর্দ্দা নদী ভাঙ্গন রোধ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে উজানপাড়া, মাটিকাটা, ভাটোপাড়া, পিরিজপুর, বিদিরপুর, প্রেমতলী, ফরাদপুর, মাদারপুর, সারাংপুর, সুলতানগঞ্জসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম। সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ অবস’ায় রয়েছে গোদাগাড়ী মডেল থানা, রেলবাজার, ডাকবাংলা, সময়মত বাঁধের সংস্কার কাজ না হলে সমস’ বাঁধ এবার বন্যায় নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর একজন প্রকৌশলী জানান, রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে ভাঙ্গনের বিষয়টি ঢাকায় বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।

পাতাটি ১৮৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন