logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo যারা উন্নয়ন চায় না তারা গ্যাস সংযোগের বিরোধিতা করছে
যারা রাজশাহীর উন্নয়ন চায় না তারা গ্যাস সংযোগের বিরোধিতা করছে। যারা এ বিরোধিতার সঙ্গে যুক্ত তারা রাজশাহীর আগে বগুড়াতে গ্যাস পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। তারা সেসময় রাজশাহীতে গ্যাস চাই এমন দাবি করতে ভয় পেয়েছে। গ্যাস সংযোগের বিরোধিতাকারীদের বর্তমান আচরণের প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানালেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। রাজশাহীর উন্নয়নের বিষয়ে কোনো ধরনের আপোস মানবেন না বলে জানান তারা।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ২০০১ থেকে গ্যাসের জন্য রাজশাহীবাসী আন্দোলন করছে। ২০০৮ সালে খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহীতে গ্যাস আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে বিজয়ী হন। পাইপলাইনে বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাবি এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। চার বছর নয় মাসের কার্যকালে মেয়র লিটন সরকারের ভেতরের অমলাতন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করেছেন রাজশাহীতে গ্যাস আনার জন্যে। রাজশাহীর উন্নয়নে এ এলাকার সব সংসদ সদস্য একটি টিম হিসেবে কাজ করেছে। এ টিমের লিডার এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার প্রচেষ্টায় গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীতে পাইপলাইনে গ্যাস আসে। সেসময় শিল্পকারখানার জন্য গ্যাস দেয়া হয়। পরে জানানো হয় জানুয়ারিতে গ্যাস দেয়া হবে। নানা জটিলতার কারণে তা শেষ পর্যন্ত ৭ জুন বাস্তবায়িত হয়।
নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনেই গ্যাস কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমি গত শনিবার নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছি। এতে কি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হবে।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের কারণে কী দেশের উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ থাকবে?
তিনি আরো বলেন, গ্যাস সংযোগ একটি চলমান প্রক্রিয়া সোমবার থেকে প্রতিদিন ৪০টি বাড়িতে সংযোগ দেয়া হবে। নির্বাচনের আগেই ৪০০ বাড়িতে সংযোগ চলে যাবে। প্রথম দফায় ৩২ জনকে সংযোগ দেয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে ঢাকাতে যখন গ্যাস সংযোগ দেয়া হয় তখন এর উদ্বোধন করা হয় সাহিত্যিক শওকত ওসমানের বাড়িতে সংযোগ দিয়ে। বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়িতে সংযোগ দেয়ার মাধ্যমে উদ্বোধন একটি রীতি। বিএনপি নেতা মিনুসহ অন্য কয়েকজন নেতার বাড়ির হোল্ডিং উল্লেখ করে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে আবেদন করা হয়েছে তা তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন।
রাজশাহীর উন্নয়নে তাদের আগামীর পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা রাজশাহী থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এর জন্য আবদুলপুর থেকে রাজশাহী ডুয়েল গেজ লইন স্থাপন করতে হবে। এ প্রকল্পর কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। গ্যাস এবং রেল যোগাযোগ যদি স্থাপন করা যায় তবে রাজশাহীর উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
এ বিষয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু বাক্কার আলী বলেন, রাজশাহীতে গ্যাস এসেছে। এটিকে শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ এ এলাকার উন্নয়ন তথা কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদান রাখবে। এখন সবার আগে প্রয়োজন রেল যোগাযোগের উন্নয়ন সবচেয়ে সহজ এবং কম খরচের যোগাযোগ হিসেবে সবার আগে এর উন্নয়ন বেশি জরুরি। রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি। রাজশাহীতে শিল্প জোন স্থাপন জরুরি। এর জন্য অবশ্য কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন রাজশাহীর উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, গ্যাস আমরা পেয়েছি এখন প্রধান কাজ বন্ধ কারখানা চালু করা। নতুন কারখানা স্থাপন করতে হবে। রেল যোগাযোগ চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে রফতানি বৃদ্ধি করা যাবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সিলেট চট্টগামের রাজনীতিকেরা যেভাবে এলাকা উন্নয়নে এক জায়গায় থাকেন সেভাবে সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে।

পাতাটি ২১৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন