logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্য তালগাছ বিলুপ্তির পথে
বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতীক তালগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। পুকুর পার, রাস্তার ধার ও বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় অসংখ্য তালগাছ দেখা যেতো। কিন্তু এখন আর সে পরিস্থিতি নেই। বরেন্দ্র এলাকার লালমাটি থেকে ক্রমশ কমতে আছে তালগাছ।
বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, মাটি ও টিনের বাড়ি তৈরি করতে তালগাছের প্রয়োজন হয়। কৃষিকাজের জন্য লাঙলের রিস ও গরুর গাড়ির ধুরি তৈরিতে তালগাছ ব্যবহার করতেন কৃষকরা। চৈত্র মাসের প্রচ- গরমে তালপাখা মানুষকে স্বস্তি দিতো। এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে তালপাখা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতো। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও তালপাখার চাহিদা ছিল।
তালপাখা মূলত এ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীরা তৈরি করতেন। বাড়ির গৃহিণীরা তালের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার যেমন; তেলপিঠা, পাতা পিঠা, তালমুঠাপিঠা তৈরি করতেন। এগুলো এ অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবারও হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু কালের পরিবর্তনের সঙ্গে তালগাছও হারিয়ে যেতে বসেছে। একটা সময় প্রাকৃতিকভাবেই এ অঞ্চলে তালগাছ গজাত। তালের বীজের অভাবে এখন আর তালগাছ গজায় না বলে বরেন্দ্র অঞ্চলের লোকজন জানান। তবে ২০১০ সালের দিকে দারিদ্র্যবিমোচন ও মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করতে বরেন্দ্র অঞ্চলে তাল ও খেজুরগাছ লাগানো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বীজ সংগ্রহ করে রাস্তার দুপাশে, পুকুর পারে, উঁচু ডাইঙ্গে খাঁড়ির পারে ও প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে ফাঁকা জায়গায় তালগাছের বীজ রোপণ করে। ব্যাপকভাবে গাছও গজায়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোপণকৃত তালগাছগুলো শুকিয়ে মরে যায়।
এ প্রসঙ্গে, গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার ড. সাইফুল আলম বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানসহ অন্যান্য ফসল ব্যাপকভাবে উৎপাদন হলেও এ অঞ্চলের মানুষ সেভাবে সচ্ছলতা অর্জন করতে পারেন নি। অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এসব মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ফসল চাষের পাশাপাশি খেজুর ও তালগাছ লাগাতে হবে। এ অঞ্চলে চিনি ও গুড়ের চাহিদা মেটানোর পর দেশ ও বিদেশে তালের রসের গুড় রফতানি করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানিসহ সেচ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ও সবুজের সমাহার ঘটাতে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন ঘটাতে হবে। সবুজ ও সুন্দর পরিবেশ গড়তে সকল পেশার লোকজনকে একসঙ্গে কাজ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

পাতাটি ২৫০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন