logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পদ্মাপারে ইন্টারনেট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাজিদ । নগরীর বড়কুঠি পদ্মাপারে একমনে বসে তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। ক্যাম্পাসে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে তার অর্থ খরচ করতে হয়। কিন্তু পদ্মাপারে বসে সে ইচ্ছামতো প্রয়োজনীয় ওয়েব ব্রাউজ করতে পারেন।
শুধু মাজিদ মিঠুই নয়, তার মতো নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখন পদ্মাপারে আসেন ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য। নগরবাসীর জন্য বিনামূল্যে এ ধরনের প্রযুক্তির সেবা নিয়ে এসেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ওয়াই-ফাই সংযোগ। পদ্মাপারের বড়কুঠি এলাকাটিকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ।
পদ্মাপারে বড়কুঠি বিনোদনকেন্দ্রে গেলে এখন মনে হবে, বিকেলটা শুধু আর বেড়ানোর নয়। পদ্মাপারের এই জায়গাটায় এসে লেগেছে প্রযুক্তির ঢেউ। এটি এখন তারহীন ওয়াই-ফাই জোন। ল্যাপটপ বা মুঠোফোন নিয়ে এখানে এলে যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারছেন ইন্টারনেট। এর আগেও এই বিনোদনকেন্দ্রে নগরীর লোকজনের উপচেপড়া ভিড় থাকতো। তারা শুধু ঘুরে বেড়াতেন। আড্ডা দিতেন। এখনো তারা আসছেন, তবে এখন অনেকেই সঙ্গে নিয়ে আসছেন নিজের ল্যাপটপ, স্মার্টফোন।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাজশাহী সিটি করপোরেশন পদ্মাপারের এই এলাকায় ওয়াই-ফাই জোনের উদ্বোধন করেছে। সকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দুই হাজার মিটার ব্যাসার্ধ নিয়ে যেদিকেই যাওয়া যাবে, সংযোগ পাওয়া যাবে। একসঙ্গে এই সুবিধা পাবেন ২০০ ব্যবহারকারী। এর পর থেকেই পাল্টে গেছে বিনোদনকেন্দ্রটির চিত্র।
বিকেল বেলা পদ্মাপারে গেলে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। কারো হাতে ল্যাপটপ আবার কারো হাতে মুঠোফোন। সবাই ব্যস্ত। রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাজিদ মিঠু জানালেন, মডেমের তুলনায় বেশি গতি পাওয়া যাচ্ছে। সরাসরি লাইভ খেলা দেখা যাচ্ছে। বিনামূল্যে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। এ যেন অন্য জগৎ। এখানে ল্যাপটপ, স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ওয়াই-ফাই জোনে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকার কারণে প্রতিটি কাজ অনেক দ্রুত করা সম্ভব হয়। নেটের গতি ভালো থাকায় সরাসরি টিভি দেখা কিংবা ভিডিও চ্যাটিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যায় এখানে। এছাড়া নতুন নতুন সিনেমা, গান, বই ডাউনলোড করা যায় খুব সহজেই। ফলে বিনোদনের পাশাপাশি পড়াশোনার কাজটিও করা যায় এ মনোরম পরিবেশে বসে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরীর আরো ৬টি পয়েন্টে এ ধরনের ওয়াই-ফাই সংযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু ওয়াই-ফাই নয়, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের উদ্যোগে বড়কুঠি পদ্মাপারকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে মনোরম অবকাঠামো। বিনোদনপ্রেমী মানুষদের যা খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বড়কুঠি ঘাটে গড়ে তোলা হয়েছে মনোরম বিনোদন স্পট। নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। যাতে রয়েছে শৈল্পিক ছোঁয়া। দর্শনার্থীদের বসার জন্য করা হয়েছে ধাপে ধাপে সিঁড়ি। পদ্মাপারেই ছোটখাটো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য মুক্তমঞ্চের আকৃতিও দেয়া হয়েছে জায়গাটিতে। নগরীর পরিবেশকে নির্মল রাখতে বড়কুঠিতে গারভেজের সেকেন্ডারি পয়েন্ট নির্মাণও করা হয়েছে। বড়কুঠি থেকে শুরু করে ফুদকিপাড়া মুক্তমঞ্চ পর্যন্ত করা হয়েছে কালভার্ট ও ইউনিব্লক ফুটপাত। ফুদকিপাড়া মুক্তমঞ্চের আধুনিকায়ন এখন যে কাউকে আকৃষ্ট করতে পারে। মঞ্চের পিছন দিয়ে পদ্মার তীর ঘেষে নির্মাণ করা হয়েছে মনোরম ফুটপাত। মঞ্চের পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয়েছে একটি দর্শনীয় কালভার্ট। পদ্মাপার ঘিরে এ ধরনের আধুনিকায়ন মুগ্ধ করছেন নগরী ও নগরীর বাইরে থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের। সে কারণেই দেশি-বিদেশি হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমান রাজশাহীর পদ্মাপারে। এতোদিন দর্শনার্থীর জন্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা বা অবকাঠামো তৈরি না থাকলেও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ ধরনের আধুনিকায়ন করায় আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের। ফলে পর্যটন নগরী হিসেবে রাজশাহী অনেকখানিই এগিয়ে গেল। পদ্মাপারের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে সহজেই দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে বিপুল রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এখানে

পাতাটি ৩০৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন