logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo সম্প্রচার স্টুডিও অচল, জনবল-সংকট বেতালে রাজশাহী বেতার
বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর প্রধান সম্প্রচার স্টুডিওটি দুই সপ্তাহ ধরে অচল। সেই সঙ্গে তিন-চার মাস ধরে আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি শূন্য রয়েছে। আটজন উপপরিচালকের স্থলে আছেন একজন, ১২ জন সহকারী পরিচালকের স্থলে পাঁচজন ও ৬৪ জন নিজস্ব কলাকুশলীর (স্টাফ আর্টিস্ট) স্থলে আছেন ১৩ জন।
স্বল্পসংখ্যক এই কর্মকর্তা-কর্মচারী রাত-দিন কাজ করেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। এ অবস্থায় অনুষ্ঠানের মান নিয়েও বেতারের শ্রোতারা অভিযোগ করে চিঠি দিচ্ছেন।
বেতার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বেতারে মোট চারটি স্টুডিও রয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্প্রচার স্টুডিও। অন্য তিনটি রেকর্ডিং স্টুডিও। এর একটি বেলা সাড়ে তিনটা থেকে এফএমের জন্য ছেড়ে দিতে হয়। দুই সপ্তাহ ধরে সম্প্রচার স্টুডিওটি নষ্ট থাকায় এখন দুটি রেকর্ডিং স্টুডিওর একটি সম্প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শিল্পী, কলাকুশলী ও বাইরে থেকে আসা কথকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আঞ্চলিক পরিচালক ফারহা সোহরাওয়ার্দী চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিন-চার মাস ধরে এই পদটি শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে আটজন উপপরিচালকের কাজ করছেন একজন উপপরিচালক। আঞ্চলিক পরিচালক চলে যাওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে একমাত্র উপপরিচালককেই। এদিকে ১২ জন সহকারী পরিচালকের মধ্যে যে পাঁচজন আছেন, তাঁদের প্রায় সবাই নবীন। উপপরিচালককে সহকারী পরিচালক থেকে শুরু করে আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ৫১ জন নিজস্ব কলাকুশলী না থাকায় কাকে দিয়ে কাজ করানো হবে, তা নিয়েও কর্তৃপক্ষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জনবল সংকটের প্রভাব পড়েছে অনুষ্ঠানের ওপর। অনুষ্ঠানের মান গেছে নেমে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শ্রোতারা।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিন্যাগাড়ি গ্রামের আবুল বাশার নামের এক শ্রোতা ৬ জানুয়ারি চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন, ওই দিন সম্প্রচারিত ‘স্পন্দন’ অনুষ্ঠানটি তিনি পরিষ্কার শুনতে পাননি। একই দিন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চন্দ্রপুর উত্তরপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থাপনা করেন, তাঁদের পাঠ ঠিক হয় না। প্রায়ই ভুল বা অনেক্ষণ থেমে থেমে অমনোযোগের সঙ্গে পাঠ করেন। এতে স্পন্দনের মান নষ্ট হয়। তাই সামনে যেন এমন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।’
নাটোরের লালপুর উজেলার দক্ষিণ লালপুর গ্রামের মিতালী রেডিও ক্লাবের সভাপতি শেখ আবদুল হান্নান লিখেছেন, ‘ইদানীং লক্ষ্য করছি, রাজশাহী বেতারের অবস্থা খুবই বেহাল। কর্মকর্তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছেন না। নিজেদের খেয়ালখুশিমতো চলছেন, বেতার চালাচ্ছেন।’
জানতে চাইলে বেতারের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ফরিদ উদ্দিন কোনো কথা বলতে চাননি। আঞ্চলিক প্রকৌশলী মিরাজ উদ্দিন গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানান, ঢাকায় পাঠিয়ে যন্ত্রপাতি ঠিক করতে দেরি হয়েছে। আজকালের মধ্যেই স্টুডিও চালু হবে।

পাতাটি ২৪৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন