logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo জামায়াতের হরতালে সমর্থনএ বিএনপি
জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালে ‘নৈতিক’ সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের সমাবেশে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে ডাকা হরতালে সমর্থন দিয়েছেন তারা। যদিও জামায়াতের বিবৃতিতে বিষয়টি নেই। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিই তাদের এই হরতালের প্রধান দাবি। হরতাল আহ্বানের আট ঘণ্টার মাথায় সোমবার বিএনপি তাদের জোট শরিক দলের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রাত সাড়ে ৯টায় বলেন, “আমরা তাদের আহুত সকাল-সন্ধ্যা হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি।” হরতালে সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, “সরকার দেশের একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। তারা এর প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে।” যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত শীর্ষনেতাদের মুক্তি দাবিতে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী দুপুরে হরতালের ঘোষণা দিলেও এ নিয়ে বিবৃতিতে আটক নেতাদের মুক্তিই প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেছে দলটি।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান হরতালের ডাক দিয়ে এই বিবৃতি দেন। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, সারাদেশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি দেয়া, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, সরকারের ‘দুঃশাসন’, ‘সীমাহীন দুর্নীতি’ ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর ‘আঘাত’ প্রতিরোধ। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামারুজ্জামানসহ আট নেতার বিচার চলছে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন বিএনপির দুই নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আব্দুল আলীমও। বিএনপির পাশাপাশি ইসলামী ঐক্যজোট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও রাতে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এক বিবৃতিতে হরতাল সফল করতে তার দলের নেতা-কর্মীদের রাজপথে থাকার আহবানও জানিয়েছেন। আটক নেতাদের মুক্তি দাবিতে সোমবার সমাবেশে পুলিশ অনুমতি না দেয়ার পর দুপুরে হরতালের ঘোষণা দেয় জামায়াত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে জামায়াতকে ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরও রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেআইনিভাবে’ কাউকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। সোমবার দুপুরে নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকের পর এই কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, “নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তির দাবিতে বিকালে আমাদের সমাবেশের কর্মসূচি আছে। তাতে বাধা দিলে আমরা সারাদেশে হরতাল করব।”

শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে নভেম্বর মাসের শুরু থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে আসছে জামায়াত-শিবির। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের গাড়িবহরও তাদের হামলার মুখে পড়ে। এ ছাড়া জয়পুরহাটে এক পুলিশ সদস্যের গায়ে আগুন দেয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত দেড়শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার জামায়াত কর্মীকে। মঙ্গলবারের হরতালের সমর্থনেও মিছিল থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে গাড়ি ভাংচুর করেছে জামায়াতকর্মীরা।

পাতাটি ৩১৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন